রাজ্যে বিরোধী দলনেতা নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে বড়সড় আইনি জট তৈরি হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ব্লকের তরফে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে মামলা দায়ের হয়েছে, মঙ্গলবার তারই শুনানি ছিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে। শুনানি চলাকালীন আদালত স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
আদালতের প্রশ্ন ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: মামলা চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সরাসরি জানতে চান, “যদি স্পিকারের কাছে একই দলের দুটি ভিন্ন প্রস্তাব থাকে, তবে স্পিকারের প্রকৃত দায়িত্ব কী? কোন যুক্তিতে তিনি আগের প্রস্তাবটি উপেক্ষা করলেন এবং কোথায় সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে?”
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, ৮০ জন এবং ৫৮ জন বিধায়কের দুটি ভিন্ন প্রস্তাব থাকলে স্পিকার নিজের কক্ষে বসে কীভাবে একক সিদ্ধান্তে ঠিক করছেন কে সঠিক আর কে ভুল? এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকার কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বেঞ্চ।
স্পিকারের আইনজীবীর সওয়াল: স্পিকারের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, স্পিকার কোনোভাবেই কেবল ‘রাবার স্ট্যাম্প’ নন। ১৯৩৭ সালের আইনের ভিত্তিতে পরিস্থিতির বিচার করেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্পিকারের আইনজীবীর অভিযোগ, মামলাকারীর পেশ করা প্রস্তাবের স্বাক্ষরগুলোতে বড় হাতের অক্ষরের গরমিল রয়েছে এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছে। বিধায়কদের স্বাক্ষর সদনের নথির সঙ্গে মিলছে না বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
হাইকোর্টের অবস্থান: স্পিকারের আইনজীবীর সওয়ালের পাল্টা আদালত জানায়, যখন স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে, তখন বিষয়টি পুলিশের কাছে পাঠিয়েই দায় শেষ করা যায় না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে আদালত সন্দিহান।
এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামীকাল বুধবার। নিয়োগ পদ্ধতি ও স্পিকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





