২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভূতপূর্ব ধাক্কা খাওয়ার পর এবার সরাসরি ময়দানে নেমে দলটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওয়াইসি তৃণমূলের এই পরাজয়কে কেবল একটি রাজনৈতিক হার হিসেবে দেখছেন না, বরং একে তিনি শাসকদলের দীর্ঘদিনের ‘ভুল নীতি ও বিশ্বাসঘাতকতার’ ফল বলে অভিহিত করেছেন।
পরাজয়ের পেছনে ৪টি মূল কারণ: ওয়াইসি তৃণমূলের ভরাডুবির পেছনে মূলত চারটি বিষয়ের দিকে আঙুল তুলেছেন:
দুর্নীতি ও দুঃশাসন: রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং চরম দুর্নীতি যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল, তা তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।
মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: ওয়াইসির অভিযোগ, তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ভোটকে কেবল তাদের ‘রাজনৈতিক সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু সম্প্রদায়ের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।
ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের ইস্যু: দীর্ঘসময় ধরে প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল হওয়ার ঘটনাকে রাজ্যের মুসলিমদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন তিনি। ওয়াইসির দাবি, এই ইস্যুটিতে তৃণমূলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত উদাসীন।
জনবিচ্ছিন্নতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার তৃণমূল স্তরের মানুষের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে মন্তব্য করেন ওয়াইসি।
ওবিসি ইস্যু ও ওয়াইসির তোপ: ওয়াইসি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের ঘটনায় তৃণমূল সরকারের দীর্ঘ নীরবতা কেন ছিল? তাঁর মতে, রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব তৃণমূলের কাছে কেবলই ‘নামহীন’ হয়ে থেকেছে। তিনি মনে করেন, মুসলিমদের নিজস্ব শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর না থাকার ফলেই তাদের এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের ‘ভোট-ব্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, তা যে ২০২৬-এর নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে, ওয়াইসির এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিতবাহী। তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে নিজস্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা আরও একবার স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান।
তৃণমূলের এই পরাজয় কি তবে বাংলায় মুসলিম রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াইসির এই আক্রমণ রাজ্যের আগামী রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।





