ভবানীপুরের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেই নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দলের পক্ষে আইনজীবী তথা নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলার প্রেক্ষিতে কী কী অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা জনসমক্ষে তুলে ধরেন।
তৃণমূলের মূল অভিযোগসমূহ: হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে তৃণমূল:
গণনায় কারচুপি: তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের গণনা স্বচ্ছভাবে হয়নি। ১২ রাউন্ড পর্যন্ত গণনা ঠিকঠাক চললেও, পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ফলাফলে কারচুপি করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার নিয়ে বিতর্ক: তৃণমূলের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে ব্যক্তি রিটার্নিং অফিসার ছিলেন, তাঁকেই এই নির্বাচনেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
স্বজনপোষণ: বিধানসভা নির্বাচনের কাজের নিরিখেই বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে বড় বড় পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে মুখ্যসচিব পদে নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও তৃণমূল স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছে।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, ‘‘বিজেপি কী বলল, তার ভিত্তিতে আমরা মামলা করি না। আইনি পথেই নির্বাচনের অনিয়মগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেছি।’’
পাল্টা তোপ কাকলির: মমতার এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি’ বলে কটাক্ষ করেছেন এনসিপিআই-তে সদ্য যোগ দেওয়া তৃণমূলের বিদ্রোহী নেত্রী কাকলী ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, ‘‘এতদিন পর এসব অভিযোগ তোলা স্রেফ ‘আফটার থট’। নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর এই দীর্ঘ সময়ে কেন কেউ চুপ ছিল? আসলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্যই এখন এসব অভিযোগ সাজানো হচ্ছে।’’
তৃণমূল নেত্রীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে কাকলী আরও বলেন, এখন সুবিধা অনুযায়ী অভিযোগ তোলার বিষয়টি সাধারণ মানুষ দেখছেন। ভবানীপুর কেন্দ্রের এই ফলাফল বিতর্ক এখন কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।





