বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ভাঙন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ যেন এবার এসে পড়ল মহারাষ্ট্রেও। শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের দলের অন্দরেও ‘অপারেশন টাইগার’ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, উদ্ধবের দলের অন্তত ৭ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। আর এই পরিস্থিতিতেই দলীয় সাংসদদের নিয়ে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসলেন উদ্ধব ঠাকরে।
সাংসদদের সাফ বার্তা: সূত্রের খবর, এই বৈঠকে উদ্ধব ঠাকরে কোনো রাখঢাক না রেখেই দলের বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যেতে চায়, তারা যেতে পারে। তিনি কাউকেই দলে ধরে রাখার জন্য জোর করবেন না।
পুরোনো ক্ষত ও হুঁশিয়ারি: এদিনের বৈঠকে উদ্ধব ২০২২ সালের সেই বড় ভাঙনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যখন ৪০ জন বিধায়ক দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। উদ্ধব বলেন, “সেই সময়েও আমি সবকিছু জানতাম। আমি চাইনি কাউকে জোর করে দলে আটকে রাখতে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যারা বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন, তারা একদিন নিজেদের সিদ্ধান্তের জন্য চরম অনুতপ্ত হবেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাবে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের মেরুকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এনসিপিআই-এর মতো দলগুলোর উত্থান ও শাসকদলের ভাঙন যেভাবে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে, তাতে উদ্ধব ঠাকরের দলও যে চাপের মুখে, তা এই বৈঠকে স্পষ্ট।
উদ্ধব ঠাকরের এই ‘আদি এবং অকৃত্রিম’ অবস্থানের পর, দলের সাংসদরা শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে থাকেন নাকি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয়—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের।





