সিরাপের যথেচ্ছ ব্যবহারে লাগাম টানল মোদী সরকার, আজ থেকেই কার্যকর এই নয়া বিধি

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাসে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে আর সহজে সাধারণ সর্দি-কাশির সিরাপও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের দোকান থেকে কেনা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের এক বিশেষ নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সব ধরনের তরল ওষুধ বা সিরাপ এখন থেকে শুধুমাত্র চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন থাকলেই ফার্মেসি থেকে কেনা সম্ভব।

এতদিন পর্যন্ত কোনো রকম প্রেসক্রিপশন ছাড়াই দেশের যেকোনো ওষুধের দোকান থেকে কাশির সিরাপ বা তরল ওষুধ কেনা যেত। কিন্তু ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) নিয়ম, ২০২৬’-এর আওতায় আনা এই নতুন আইন অনুযায়ী, এখন থেকে ক্রেতাদের রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ফার্মেসিতে জমা দিতেই হবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ড্রাগস আইন, ১৯৪৫-এর ‘তফসিল কে’ (Schedule K) থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিরাপ এখন থেকে অন্যান্য প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের সমতুল্য হয়ে গেল।

কেন নেওয়া হলো এই কড়া পদক্ষেপ? মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে কাশির সিরাপের অতিরিক্ত সেবন রোধ করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক বা ড্রাগ-যুক্ত সিরাপের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভারতের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছ ওষুধ সেবনের কুফল নিয়ে সতর্ক করে আসছিলেন। শিশুদের সামান্য ঠান্ডা লাগলেই অভিভাবকরা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে যে সিরাপ খাওয়ান, তাতে লিভার ও কিডনির ক্ষতির মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। এছাড়াও ভুল ওষুধ সেবন ও ওষুধের প্রতি আসক্তি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।

কেন্দ্রীয় সরকার ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০-এর ১২ এবং ৩৩ নম্বর ধারায় এই নতুন নীতি কার্যকর করেছে। এটি রাতারাতি নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং গত ডিসেম্বর মাস থেকে খসড়া প্রস্তাবের ওপর বিশেষজ্ঞ ও ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির মতামত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরেই চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এখন থেকে কোনো ওষুধের দোকান প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপ বিক্রি করলে ড্রাগ ইন্সপেক্টরের তদারকিতে তাদের লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হতে পারে।

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সামান্য সর্দি-কাশিতে ডাক্তার দেখিয়ে সিরাপ কেনা কিছুটা ব্যয়সাপেক্ষ হতে পারে ঠিকই, তবে দীর্ঘমেয়াদী জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে বিশেষজ্ঞরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। এর ফলে ওষুধের ভুল প্রয়োগ ও যথেচ্ছ সেবন অনেকটা কমবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের রপ্তানি করা সিরাপের গুণমান ও বিশ্বাসযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।