প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব রুখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ টেলিগ্রাম

পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট রাখতে জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET (UG) ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষার প্রাক্কালে এক অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র সুপারিশের ভিত্তিতে দেশজুড়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘টেলিগ্রাম’-এর পরিষেবার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে এই অ্যাপটির অ্যাক্সেস সীমিত বা বন্ধ থাকবে। পরীক্ষার পবিত্রতা বজায় রাখতে এবং গুজব ও বিভ্রান্তি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
এনটিএ-র গোয়েন্দা বিভাগের অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে যে, একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। প্রতারকরা টেলিগ্রামের একটি বিশেষ কারিগরি বৈশিষ্ট্যের—’মেসেজ এডিট’ অপশনটির—নির্লজ্জ অপব্যবহার করছিল। এই ফিচারের মাধ্যমে প্রতারকরা পরীক্ষা শুরুর অনেক আগে একটি সাধারণ বার্তা বা ফাঁকা ফাইল পাঠিয়ে রাখত। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর, সেই পুরনো পোস্টটিকে এডিট করে সেখানে প্রশ্নপত্রের ছবি বা ফাইল জুড়ে দিত। আশ্চর্যজনকভাবে, মেসেজ করার মূল সময় বা টাইমস্ট্যাম্পটি একই থেকে যেত। ফলে, বাইরের মানুষ বা পরীক্ষার্থীদের মনে হতো যে, পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এই ভুয়া প্রমাণের মাধ্যমে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই ছিল চক্রটির মূল লক্ষ্য।

এই কারচুপি রুখতে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রক দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে:
১. আগামী ২২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে টেলিগ্রাম অ্যাপের পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
২. ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামকে তাদের মেসেজ এডিট করার পরিষেবা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রাখতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো পুরনো বার্তা পরিবর্তন করে মিথ্যা ইতিহাস তৈরি করা না যায়।

এনটিএ-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই এবং বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র আসার কোনো সুযোগও নেই। প্রতারকদের প্রলোভন থেকে বাঁচতে পরীক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এনটিএ এমন অনেক সন্দেহজনক গ্রুপ, চ্যানেল এবং বট ডিলিট করেছে, যারা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি চালাচ্ছিল।

যদিও এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে টেলিগ্রামের সাধারণ ও বৈধ ব্যবহারকারীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন, তবে এনটিএ জানিয়েছে যে, দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল। ২১ জুন অনুষ্ঠেয় পুনঃপরীক্ষাটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সমস্ত সুরক্ষাবলয় তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সংস্থার পরামর্শ—কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সম্পূর্ণ শান্ত মাথায় নিজের প্রস্তুতিতে আস্থা রাখুন এবং নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নিন।