“না শোধরালে উল্টে টাঙানো হবে!” প্রকাশ্য চা চক্রে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি

বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া বিজেপি। মেছুয়া বাজারের চা চক্রে উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ এদিন স্পষ্ট করে দিলেন, রাজ্যে অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। তাঁর কথায়, “না শোধরালে উল্টে টাঙানোর নিদান এবার দিচ্ছি।”
মঙ্গলবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েই দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবই শুরু হয়েছে। রাস্তা খোলাই আছে, তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা ব্যবস্থা নেবে।” এদিন তৃণমূলের অন্দরে চলা সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি নিয়েও তিনি সরব হন। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসাদসম বাড়ি ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলীপ বলেন, “সাধারণ মানুষের টাকা চুষে এই সম্পদ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলছে, এমন বহু নেতা সামনে আসবে এবং তাদের প্রত্যেককে জেলে যেতে হবে।”
কলকাতা পুরসভার অনুষ্ঠানে বিরোধীদের উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে দিলীপের কটাক্ষ, “ঠেলায় পড়লেই বিড়াল গাছে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী সবকা সাথ সবকা বিকাশের কথা বলেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করছি।” দলের দুর্নীতি ও সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “পার্টি অফিসগুলো বর্তমানে মধুচক্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শাহজাহান শেখের ঘটনা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব জায়গাতেই একই চিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব জানতেন না, তা হতে পারে না।” অরূপ বিশ্বাসের হাজিরা এড়ানো প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা অনুব্রত মণ্ডলের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তাঁকেও। শেষমেশ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যারা চোর-ডাকাতদের সমর্থন করবে, তাদেরও একই পরিণতি হবে। খুঁজে খুঁজে সবাইকে বাংলাদেশে পাঠাবো।”