বেতন ও পেনশন নিয়ে ধোঁয়াশা! ট্রেজারি অনুমোদনে দেরির জল্পনায় উত্তপ্ত রাজ্য প্রশাসনিক মহল

জুন মাসের শেষলগ্নে এসে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের অন্দরে বেতন ও পেনশন সময়মতো পাওয়া নিয়ে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। প্রতি মাসের শুরুতেই সংসারের যাবতীয় খরচ ও ঋণের কিস্তি মেটানোর জন্য বেতন ও পেনশনের ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবার এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, ১ জুলাইয়ের আগেই কি বেতন ও পেনশন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে?

উদ্বেগের কারণ কী?
রাজ্যের সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, চলতি মাসে বিভিন্ন দপ্তরে বেতন সংক্রান্ত বিল প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্তি ও ট্রেজারি অনুমোদনের কাজ মাসের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে। বিল আপলোড বা অনুমোদনে সামান্য দেরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেতন ও পেনশন জমা পড়ার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত ট্রেজারি, পে-অ্যান্ড-অ্যাকাউন্টস অফিস এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের পরিস্থিতি:
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা, যাঁরা মূলত ট্রেজারি-নির্ভর বেতন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ব্যাংক ও ট্রেজারির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। সামান্য বিলম্বেও তাঁদের মাসের শুরুতেই আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে বলে কর্মচারী সংগঠনগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন সরকারের কাছে এই বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছে। তাদের মতে, মাসের প্রথম সাত দিনেই চিকিৎসার খরচ, বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য আর্থিক দায় মেটাতে হয়, তাই সামান্য বিলম্বও বহু পরিবারের জীবনে নাভিশ্বাস তুলে দেয়।

অর্থ দপ্তরের অবস্থান:
তবে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের বক্তব্য, মাসের শেষে এই ধরনের আশঙ্কা প্রতি বছরই দেখা যায়। অনেক সময় ছুটির দিন বা ব্যাংকিং সময়সূচির কারণে বিল প্রক্রিয়াকরণে সামান্য দেরি হয়, যা বড় কোনো সমস্যা নয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ট্রেজারি, পে-অ্যান্ড-অ্যাকাউন্টস অফিস এবং ব্যাংকিং চ্যানেলগুলির মাধ্যমে বেতন ছাড়ের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। রাজ্য সরকার বা অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে বেতন বা পেনশন বিলম্বিত হওয়ার কোনো ঘোষণা করা হয়নি।

প্রশাসনিক স্তরে নানা জল্পনা ও গুজব ডালপালা মেললেও, অর্থ দপ্তরের আধিকারিকরা আশ্বস্ত করেছেন যে বেতন বা পেনশনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো বড় সংকট নেই। এখন প্রশ্ন হলো, ১ জুলাইয়ের আগেই সকলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতনের অঙ্ক পৌঁছাবে কি না। সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও, মাসের শেষ কয়েকটা দিন কর্মচারী মহলে আলোচনা ও উদ্বেগের সুর বজায় থাকছে।