ঋণ নিতে গিয়ে বিমা গছানো এখন অতীত! গ্রাহকদের স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অভিযোগ—ব্যাঙ্কে ব্যক্তিগত ঋণ বা গৃহঋণ নিতে গেলে ব্যাঙ্ককর্মীরা তাদের ওপর ইনস্যুরেন্স বা অন্যান্য আর্থিক পণ্য কিনতে চাপ সৃষ্টি করেন। গ্রাহকের প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক, জোরাজুরিতে গছিয়ে দেওয়া হয় নানা অপ্রয়োজনীয় পরিষেবা। আর এই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। সোমবার ‘কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কস রেসপন্সিবল বিজনেস কনডাক্ট’ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক।

নতুন নিয়মাবলির মূল দিকগুলি:
২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক, স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির ওপর এই নতুন নিয়মাবলী কার্যকর হবে। ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো সাজিয়ে নেওয়ার জন্য সাড়ে ছ’মাস সময় দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্পষ্ট নির্দেশ—ব্যাঙ্কগুলি এখন থেকে ‘মিস-সেলিং’ বা ভুল বুঝিয়ে পণ্য বিক্রির প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী:

গ্রাহকের প্রয়োজন প্রাধান্য: গ্রাহকের আর্থিক প্রোফাইলের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ নয়, এমন কোনো পণ্য ব্যাঙ্ক গছিয়ে দিতে পারবে না। গ্রাহক রাজি থাকলেও ব্যাঙ্ক তা চাপিয়ে দিতে পারবে না।

ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য নিষিদ্ধ: কোনো পণ্যের গুণমান বা শর্তাবলী নিয়ে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

স্পষ্ট সম্মতি বাধ্যতামূলক: গ্রাহকের লিখিত ও স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া কোনো পণ্য বিক্রি করা যাবে না। একটি ঋণের শর্ত হিসেবে অন্য কোনো ইনস্যুরেন্স বা পরিষেবা কিনতে বাধ্য করা যাবে না।

কঠোর অভিযোগ প্রক্রিয়া: যদি কোনো ব্যাঙ্ক ভুল বুঝিয়ে কোনো পরিষেবা গছিয়ে দেয়, তবে গ্রাহক সই করা নথিসহ ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যাঙ্ককে কেবল পুরো টাকাই ফেরত দিতে হবে না, গ্রাহককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।

কেন এই পদক্ষেপ?
দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল, গৃহঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণের আবেদনে ব্যাঙ্কগুলো তাদের সহযোগী সংস্থার বিমা নিতে অনেকটা বাধ্য করে। এই প্রবণতা গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা তৈরি করছিল। RBI-এর এই পদক্ষেপ সেই রীতির ইতি টানল। এছাড়া বিভ্রান্তিকর উপায়ে বিক্রয় ঠেকাতে SEBI, IRDAI এবং PFRDA-র মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার মানদণ্ড অনুসরণ করতে বলা হয়েছে ব্যাঙ্কগুলিকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পদক্ষেপ ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করে তুলবে। এখন থেকে ব্যাঙ্কিং লেনদেনে ‘স্বচ্ছতা’ বজায় রাখা ব্যাঙ্কগুলির জন্য বাধ্যতামূলক দায়িত্বের মধ্যে পড়বে। কোনো ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির পথও প্রশস্ত করল এই নির্দেশিকা।