মুখের ভেতর লুকিয়ে ৮১টি দাঁত! ১১ বছরের কিশোরীর এক্স-রে রিপোর্ট দেখেই আঁতকে উঠলেন চিকিৎসকরা!

সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখে ৩২টি দাঁত থাকে এবং শিশুদের মুখে দুধের দাঁতের সংখ্যা থাকে ২০টি। কিন্তু কখনও কখনও প্রকৃতি এমন কিছু বিস্ময়কর ও অভূতপূর্ব ঘটনা সামনে আনে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানকেও রীতিমতো চমকে দেয়। ব্রাজিলের ১১ বছরের এক কিশোরীর ঘটনাটি ঠিক তেমনই এক বিরলতম নজির। দাঁতের ব্যথায় ভুগতে ভুগতে সে যখন ডেন্টাল হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়, তখন কেউই কল্পনা করতে পারেননি যে এক্স-রেতে এমন চমকপ্রদ ও ভয়ংকর ছবি ধরা পড়বে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, ওই কিশোরীর মুখে মোট ৮১টি দাঁত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮টি দুধের দাঁত, ৩২টি স্থায়ী দাঁত এবং ৩১টি অতিরিক্ত বা সুপারনিউমেরারি দাঁত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই অবস্থাকে হাইপারডনশিয়া (Hyperdontia) বলা হয়, যেখানে স্বাভাবিক সংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত দাঁত তৈরি হতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের মুখে এক বা দুটি অতিরিক্ত দাঁত পাওয়া যায়, কিন্তু একসঙ্গে ৩০টিরও বেশি অতিরিক্ত দাঁত থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। ২০১১ সালে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ‘American Journal of Orthodontics and Dentofacial Orthopedics’-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের ভাইরাল হওয়ার পর এটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

কিশোরীটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অফ জুইজ দে ফোরা-র ডেন্টাল হাসপাতালে সে দাঁতের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিল। তার মূল সমস্যা ছিল উপরের চোয়ালে দুধের দাঁতের শিকড়ের কিছু অংশ বেরিয়ে আসা। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় বিশেষ কোনো অস্বাভাবিকতা বা জটিলতা চোখে না পড়লেও, চিকিৎসকরা যখন প্যানোরামিক রেডিওগ্রাফ এবং কোন-বিম কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (CBCT) করান, তখন স্ক্যানের ফলাফল দেখে তাঁরা সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে যান। চোয়ালের ভিতরে দাঁতের অদ্ভুত জটলা ও ছড়াছড়ি দেখা যায়। বেশ কয়েকটি দাঁত চোয়ালের হাড়ের ভিতরে শক্তভাবে আটকে ছিল এবং আকারেও ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক।

বিজ্ঞানীদের মতে, হাইপারডনশিয়া হলো দাঁতের একটি বিকাশগত অস্বাভাবিকতা, যেখানে ডেন্টাল ল্যামিনা বা দাঁত তৈরির টিস্যুর অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক দাঁত তৈরি হতে পারে। যদিও এর সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবুও জেনেটিক কারণ এবং কিছু সিনড্রোম এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই কিশোরীর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সিনড্রোম বা বংশগত রোগের ইতিহাস পাওয়া যায়নি, যা চিকিৎসকদের কাছে এটিকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে।