ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে কুরুচিকর জোকস! তীব্র বিতর্কের মুখে কমেডিয়ান মধুর ভির্লি

বর্তমানে কমেডি জগতের অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রে প্রণীত মুর এবং মধুর ভির্লি। সম্প্রতি প্রণীত মুরের শো-তে এক ব্যক্তির ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি কাণ্ড ভাইরাল হওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আছড়ে পড়ল মধুর ভির্লির এক বিতর্কিত জোকস। ২০২৪ সালে একটি শো-তে ধর্ষণ নিয়ে মধুর ভির্লি যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন, তা সম্প্রতি নতুন করে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই নিন্দার ঝড় উঠেছে।

কী ছিল সেই জোকস? ওই শো-তে মধুর দাবি করেছিলেন, ১০টি ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ৯টিই নাকি ‘সাধারণ’। ১০ নম্বরের ক্ষেত্রে তিনি দাবি করেন যে, নির্যাতিতা নাকি ধর্ষণের পর ধর্ষককে জড়িয়ে ধরার আবদার করেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি অত্যন্ত অসংবেদনশীল ভাষায় বলেন, “নির্যাতিতারা প্রায়ই বলেন এর থেকে মৃত্যু ভালো ছিল। কিন্তু কখনও কোনো লাশ বলে না যে মৃত্যুর থেকে ধর্ষণ ভালো।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঢেউ ওঠে। নেটপাড়ার একটা বড় অংশ এই জোকসকে ‘কুরুচিকর’, ‘অমানবিক’ এবং ‘ধর্ষণের ঘটনার স্বাভাবিকীকরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেন।

বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন মধুর ভির্লি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “বর্তমানে অনলাইনে যে ভিডিওটি শেয়ার করা হচ্ছে, তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। ক্লিপটি আমার ২ বছর আগের একটি পারফরম্যান্স থেকে নেওয়া। ভিডিওটি করার পরপরই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ভুল হয়েছে এবং আমি সেটি সরিয়েও দিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, এখন সেটি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।” ক্ষমা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি কমেডি মানেই বিভিন্ন ভাবনাকে প্রশ্ন করা বা কঠিন বিষয়কে তুলে ধরা, কিন্তু কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হওয়াটা একান্ত প্রয়োজন।”

কে এই মধুর ভির্লি? দিল্লির বাসিন্দা মধুর ভির্লি পেশাদার কমেডিয়ান হওয়ার পাশাপাশি দিল্লি আইআইটি-র প্রাক্তনী। মূলত তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণমূলক লেখা এবং পারফরম্যান্সের জন্যই তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়। ২০১৮ সালে একটি কমেডি শো জেতার পর থেকেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। মূলত মেন্টাল হেলথ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে তিনি জোকস তৈরি করেন। অনলাইনে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা বেশ ঈর্ষণীয়।

তবে এবারের বিতর্ক কমেডিয়ানদের ‘বাক্‌স্বাধীনতা’ বনাম ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা’-র প্রশ্নে আবারও নতুন করে ঘি ঢেলেছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, হাসির মোড়কে কোনো সংবেদনশীল অপরাধকে লঘু করে দেখা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। মধুর ভির্লির ক্ষমা প্রার্থনা বিতর্কের আগুনে জল ঢালতে পারে কি না, তা সময়ই বলবে।