শেয়ার বাজারে জোড়া ধামাকা! সেনসেক্সের রেকর্ড লাফে বিনিয়োগকারীদের মুখে চওড়া হাসি

সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে খুশির হাওয়া। মঙ্গলবার সকালের লেনদেনে বিএসইর ৩০-শেয়ারের সেনসেক্স ২৬২ পয়েন্ট লাফিয়ে ৭৬,৫২৬ পয়েন্টে পৌঁছায় এবং এনএসই নিফটি ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৯২৪ পয়েন্টে খোলে। বাজারের এই তেজিভাবের নেপথ্যে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ: মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব, বিশ্ববাজারে জাপানি সূচকের ঐতিহাসিক উত্থান এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রতি নতুন করে আগ্রহ।
বিদেশী ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের সরাসরি শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে আরবিআই-এর ছাড়পত্র বাজারকে আরও গতিশীল করেছে। কর ছাড়ের সুবাদে জুন মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের বন্ড মার্কেটে ১.৮৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ কর মওকুফ এবং সুদ আয়ের ওপর উৎস কর তুলে নেওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতীয় বাজার বর্তমানে দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার বেদান্ত লিমিটেডের শেয়ারে এক মিশ্র চিত্র দেখা গিয়েছে। গ্রুপের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর সদ্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। মূল সংস্থা বেদান্ত লিমিটেডের শেয়ারের দর ১.৭% কমে ২৯৭.৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পৃথক হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেদান্ত অ্যালুমিনিয়াম মেটাল লিমিটেড ও বেদান্ত অয়েল অ্যান্ড গ্যাস লিমিটেডের শেয়ার ৫% কমে ‘লোয়ার সার্কিট’-এ আটকে যায়। তবে এর উল্টো ছবি দেখা গেছে বেদান্ত আয়রন অ্যান্ড স্টিল লিমিটেডের ক্ষেত্রে, যার শেয়ার দর ৫% বেড়ে ২২.১০ টাকায় ‘আপার সার্কিট’-এ পৌঁছেছে। এছাড়া বেদান্ত পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ারও ২.৩% বেড়ে ৪১.৯০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
১:১ অনুপাতে এই ডিমারজার প্রক্রিয়ায় রেকর্ড ডেটের (১ মে) শেয়ারহোল্ডাররা বেদান্তের নতুন চারটি আলাদা কোম্পানির শেয়ার পেয়েছেন। মূলত কোম্পানির ব্যবসায়িক বিভাগগুলোকে স্বতন্ত্র সত্তায় রূপান্তর করতেই এই বিশাল করপোরেট পুনর্গঠন। ৩০ এপ্রিলের প্রি-ওপেন সেশনে শেয়ারের ক্লোজিং দর ৭৭৩.৬ টাকা থেকে কমিয়ে ২৮৯.৫ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছিল। বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের কাছে এই পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সর্বদা ঝুঁকিসাপেক্ষ, তাই যেকোনো লগ্নির আগে অবশ্যই আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।