ইরান-আমেরিকা ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি! খুলছে হরমুজ প্রণালী, তেলের দাম কি কমবে?

বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী মোড়। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ইরান ও আমেরিকা এক প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ থাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং জলপথ থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও খাতায়-কলমে চুক্তি স্বাক্ষর এখনও বাকি, তবে আগামী ১৯ জুন সুইৎজারল্যান্ডের জেনিভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তির সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই পুনরায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ স্বাভাবিক হবে, যা বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি ঘোষণার পর থেকে একটি গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, ওয়াশিংটন ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না—এই মূল লক্ষ্যেই চুক্তি হয়েছে। আমেরিকা ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো সম্পূর্ণ ভুয়ো তথ্য।”
এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাত প্রশমিত করা এবং বড় ধরনের আলোচনার সূত্রপাত করা। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আত্মবিশ্বাসী যে এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলের নিরাপত্তাকে সুসংহত করবে। যদিও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও ভ্যান্সের দাবি, চুক্তিটি কার্যকর হলে ইজরায়েলি নেতৃত্ব তা সমর্থন করবে।
তবে এই চুক্তির পথ মোটেও মসৃণ নয়। হোয়াইট হাউস যখন এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করছে, তখন ট্রাম্পের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের অন্দরেই গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ ডিরেক্টর জন র্যাটক্লিফ খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন। গোয়েন্দা মূল্যায়নে সিআইএ-র আশঙ্কা, ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। ‘ইউএস-ইরান মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ঘোষণার আগের অভ্যন্তরীণ মিটিংগুলিতে র্যাটক্লিফ তাঁর এই সংশয়ের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।
আগামী শুক্রবারের জেনিভা বৈঠক বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। একদিকে যখন হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার খবরে তেলের বাজারের অস্থিরতা কমার আশা দেখছে বিশ্ব, অন্যদিকে গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে এক বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরমাণু অস্ত্রহীন ইরানের স্বপ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই শান্তি প্রয়াস শেষ পর্যন্ত সফল হয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।