চোখের সামনেই আগুনের গোলা! বিজু এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত দুই

মঙ্গলবার সকালে ওড়িশার সুন্দরগড় জেলায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। ভস্ম থানার অন্তর্গত কৈনতারা সংলগ্ন বিজু এক্সপ্রেসওয়েতে দুটি ১৮-চাকার ট্রেলারের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে দুই চালক জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালের দিকে বিজু এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল দুটি বিশাল ট্রেলার। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি ট্রেলার আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রেলারে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই দুটি গাড়িতেই আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কেবিনের ভেতরে থাকা চালকরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি এবং সেখানেই আটকা পড়ে জীবন্ত দগ্ধ হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ এবং আগুনের শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে কাছে ঘেঁষা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়েই স্থানীয় ভস্ম থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দমকলের ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিভে যাওয়ার পর ভেতরে থাকা চালকদের মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে আগুনের প্রচণ্ড তাপে মৃতদেহগুলো এতটাই ঝলসে গিয়েছে যে, তাদের প্রাথমিক পরিচয় এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের পরিচয় জানার জন্য ট্রেলার দুটির মালিকানার নথি এবং গাড়ির নম্বর যাচাই করা হচ্ছে। বিজু এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ফলে মঙ্গলবার সকালের দিকে ওই এলাকায় যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ—যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের ক্লান্তির কারণে ঘুমিয়ে পড়ার ফলে এই ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

এই ঘটনার জেরে এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।