মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা! পাকিস্তানের মর্দানে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ বিমান, মৃত দুই পাইলট

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মর্দান জেলায় সোমবার (১৫ জুন) এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ল পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (PAF) একটি প্রশিক্ষণ বিমান। নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশন চলাকালীন বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাওয়ালধের এলাকায় ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা দুই পাইলটেরই মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা (ISPR)। তাঁদের মধ্যে একজন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মহম্মদ কাসিম আবদুল্লাহ এবং অপরজন পাকিস্তান নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ত্বহা আব্বাসি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। এরপরই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মর্দানের একটি উন্মুক্ত এলাকায় আছড়ে পড়ে। বিমান বাহিনীর সদর দপ্তর এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী বোর্ড গঠন করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

এই দুর্ঘটনায় কেবল পাইলটরাই প্রাণ হারাননি, বিমানের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মাটিতে থাকা অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিকও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা নিহত পাইলটদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তাঁদের অকাল প্রয়াণকে দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয় যে, গত দুই-তিন দিনের মধ্যে পাকিস্তানে চারটি বিমান বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। কোনো সরকারি নথিতেই গত কয়েক দিনে চারটি পৃথক বিমান দুর্ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি Mi-17 হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভেঙে পড়েছিল। সেই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ২২ জন সেনা সদস্যের সকলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন। একের পর এক এমন সামরিক দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মান ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যান্ত্রিক ত্রুটির উৎস খুঁজে বের করাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।