পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে মানবিক বিপর্যয়! আন্দোলন দমাতে এবার ‘খাদ্য অবরোধ’ করল পাকিস্তান সরকার?

পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoK) বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জনরোষের আগুনে পুড়ছে রাওয়ালকোট, বাঘ, হাত্তিয়ান বালা, কোটলি, মিরপুর, সুধানোটি, ধিরকোট, দাদিয়াল এবং মুজাফফারাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি। এই গণ-আন্দোলনে ইতিমধ্যে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পথে নেমেছেন। পাকিস্তানের শোষণমূলক নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু এই আন্দোলন দমাতে পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী এবার এক চরম অমানবিক পথ অবলম্বন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পিওকে-র রাজনৈতিক নেতা এবং আন্দোলনকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার এই অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। মিরপুরের দাহাঙ্গালি প্রবেশপথের কাছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী রীতিমতো তল্লাশি চালিয়ে শাকসবজি, ফলমূল, মাংস এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করছে। অভিযোগ, সরকারিভাবে এই অঞ্চলে প্রবেশকারী যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আন্দোলনের তীব্রতা কমাতেই পাকিস্তানি প্রশাসন এই ‘খাদ্য অবরোধ’ কৌশল বেছে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

স্থানীয় নেতাদের মতে, পাকিস্তান সরকার শুধু শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের চেষ্টাই করছে না, বরং সাধারণ নাগরিকদের ওপর খাদ্য সংকট চাপিয়ে দিয়ে তাদের হেনস্থা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন বিবৃতিতে নেতারা একে সরাসরি ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মতে, এটি কেবল রাজনীতির লড়াই নয়, এটি এখন পিওকে-র মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ ঢাকতে সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন জোগানো বন্ধ করে দিয়ে অপরাধমূলক কাজ করছে।

এদিকে, গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও পুলিশ ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। এই নৃশংস হামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং ৭০ জনেরও বেশি গুরুতর জখম হয়েছেন। লাঠি, ব্যানার এবং পোস্টার হাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের একটাই দাবি, স্বাধীনতার স্বাদ এবং শোষণমুক্তি।

এই নতুন খাদ্য অবরোধের অভিযোগ পিওকে-র পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তান সরকার একদিকে আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তাদের এই অমানবিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে। আগামী দিনে এই বিক্ষোভ আরও বড় আকার ধারণ করার সম্ভাবনা প্রবল। খাদ্য ও জীবনধারণের অধিকার হরণ করে পাকিস্তান কি সত্যিই এই আন্দোলন স্তব্ধ করতে পারবে? নাকি এই অবরোধই চূড়ান্ত বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়াবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে এটুকু নিশ্চিত, পাকিস্তানের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের এই সংগ্রাম এখন আর নিছক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নেই, তা একটি পূর্ণাঙ্গ গণ-বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে।