বিদ্যুৎ বিলে আর অস্বস্তি নয়! স্মার্ট মিটার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের, আগস্টের মধ্যে হবে সম্পন্ন

রাজ্যের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও আগের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে স্মার্ট মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নে বড়সড় রদবদল আনছে রাজ্য সরকার। নতুন আঙ্গিকে এই প্রকল্প চালুর লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন: প্রিপেইড ব্যবস্থার পরিবর্তে পোস্ট-পেইড পদ্ধতি এবং সরকারি কর্মীদের আবাসনে প্রথমে এই প্রকল্প কার্যকর করা।
কেন এই পরিবর্তন? অতীতে যখন রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন তীব্র জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। গ্রাহকদের প্রধান দুটি অভিযোগ ছিল—বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া এবং প্রিপেইড পদ্ধতিতে ব্যালেন্স শেষ হলেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। প্রায় ৬০ হাজার মিটার বসানোর পর সেই কর্মসূচি কার্যত স্থগিত রাখতে হয়েছিল। সেই বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
নতুন প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য:
পোস্ট-পেইড ব্যবস্থা: সাধারণ গ্রাহকদের স্মার্ট মিটার হবে পোস্ট-পেইড। অর্থাৎ, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে মাসের শেষে বিল আসে, নতুন মিটারেও সেই একই ব্যবস্থা বজায় থাকবে। গ্রাহকদের আগে থেকে টাকা রিচার্জ বা ব্যালেন্স ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকতে হবে না।
পাইলট প্রকল্প: সাধারণ মানুষের বাড়িতে সরাসরি মিটার না বসিয়ে, প্রথম পর্যায়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও সরকার-পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে এই মিটার বসানো হবে। একে এক ধরণের ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের যুক্তি, এখান থেকে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত সংশোধন করে তবেই সাধারণ গ্রাহকদের বাড়িতে তা চালু করা হবে।
সরকারি দফতরে দ্রুত কাজ: কেন্দ্র সরকারের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (RDSS) বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৯২ হাজার সরকারি অফিসের মধ্যে ৮০ হাজার অফিসে স্মার্ট মিটার বসেছে। আগস্ট মাসের মধ্যেই বাকি অফিসগুলোতে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা: এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, “সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকারি আবাসনে মিটার বসানোর ফলে প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলে তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।”
এডিটরস নোট: স্মার্ট মিটার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক প্রশমনে সরকারের এই ‘ধীরে চলো’ নীতি কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার। আপনি কি মনে করেন পোস্ট-পেইড সুবিধা চালু হলে স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের ভয় কাটবে? আপনার মতামত আমাদের জানান।