তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বিদ্রোহী বিধায়কদের চিঠিতে সই করে শিরোনামে এসেছিলেন কোচবিহারের সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বাসুনিয়া। এবার সেই সঙ্গীতা দেবী প্রকাশ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অমানবিকতা ও চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তোলপাড় ফেলে দিলেন। তাঁর দাবি, দলের ভেতরে গণতন্ত্র নেই, বরং মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্যই কর্মীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ।
সঙ্গীতা রায় বাসুনিয়ার অভিযোগ, ভোটের ফলাফলের দিন যখন তিনি এলাকায় চরম হেনস্থা ও ঘেরাওয়ের শিকার হয়েছিলেন, তখন বারবার ফোন করেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাননি। এমনকি, ভোটের পরবর্তী সময়ে যখন তিনি কালীঘাটে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন নিজের ছেলের অসুস্থতার কথা জানালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবারের জন্যও সেই খোঁজ নেননি। সঙ্গীতার কথায়, ‘‘এলাকার উন্নয়নের জন্য দরবার করতে গেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতেন। শুধু তাই নয়, আমার সই জাল করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।’’
অন্যদিকে, এই বিধায়কের সাংসদ স্বামী জগদীশ বাসুনিয়াও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘কোচবিহার জেলায় একমাত্র সিতাইয়েই আমার স্ত্রী জয়লাভ করেছিল। কিন্তু দল তাকে বিপদের মুখে একা ছেড়ে দিয়েছিল। কর্মীদের ওপর হামলা চললেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা শীর্ষ নেতারা একবারও খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।’’ তাঁর দাবি, দল পরিচালিত হয় আইপ্যাকের অঙ্গুলিহেলনে, যা বর্তমান হারের অন্যতম প্রধান কারণ।
সঙ্গীতা বাসুনিয়ার অভিযোগের সুরে সুর মিলিয়ে জগদীশবাবু বলেন, ‘‘আইপ্যাক এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুল নীতিই তৃণমূলের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। আইপ্যাকের লোকেদের বিরুদ্ধে টাকা তোলারও অভিযোগ রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রর মতো আচরণ করেছেন।’’
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই দলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, নেত্রীকে বেছে নিতে হবে তিনি কাদের পাশে থাকবেন—অভিষেকের মতো নতুনদের, নাকি পুরনো কর্মীদের। সিতাইয়ের বিধায়কের এই বিদ্রোহ সেই দাবিকেই আরও জোরদার করল। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত দুই শিবিরের লড়াই চলছে। একদিকে মমতা-অভিষেক ঘনিষ্ঠরা, অন্যদিকে দলের উপেক্ষিত পুরনো নেতাদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে সঙ্গীতা বাসুনিয়ার মতো জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ আসন্ন পঞ্চায়েত ও পরবর্তী নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





