উঝ নদী দিয়ে ভারতে ঢোকার নীল-নকশা জইশ জঙ্গিদের! গোয়েন্দাদের চূড়ান্ত সতর্কতা

জম্মু ও কাশ্মীর সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমান্তে নতুন করে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কায় তোলপাড় নিরাপত্তা মহল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আসা সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গিয়েছে, ১৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের ছক কষছে জইশ-ই-মোহাম্মদ (JeM)-এর প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের দাবি, কাঠুয়া জেলার দলতার-ফরপুর সেক্টরে উঝ নদীকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করবে এই জঙ্গি দলটি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক সীমান্ত ঘেঁষা চাক কাজিয়ান মাসুর এলাকায় এই জঙ্গি দলটি বর্তমানে ঘাঁটি গেড়েছে। তারা এখন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরের বাইরে কোনো দুর্বল মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (BSF) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। নদীপথ, দুর্গম সীমান্ত এলাকা এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের রুটগুলোতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন এবং নাইট ভিশন সরঞ্জামের মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে থাকা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সক্রিয় রয়েছে একাধিক জঙ্গি লঞ্চ প্যাড। নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র PoK এলাকাতেই ৪২টি সক্রিয় লঞ্চ প্যাড ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সূত্র মারফত খবর, এই ক্যাম্পগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন সশস্ত্র জঙ্গি অবস্থান করছে, যারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ পাওয়ার পাশাপাশি ভারতে অনুপ্রবেশের সুযোগ খুঁজছে। এই লঞ্চ প্যাডগুলো সন্ত্রাসীদের প্রধান নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখান থেকে তারা নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) পেরিয়ে কাশ্মীরে ঢুকে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সন্দেহজনক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই বিএসএফ এবং গোয়েন্দা বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নদীপথ দিয়ে অনুপ্রবেশের যে নতুন কৌশলের কথা গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তাকে মাথায় রেখে বিশেষ টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এখন প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করছে এবং অনুপ্রবেশের যেকোনো প্রচেষ্টা রুখতে ‘ফায়ারপাওয়ার’ বাড়িয়েছে।

কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। গোয়েন্দাদের এই সতর্কবার্তা নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। অনুপ্রবেশের প্রতিটি পথ বন্ধ করতে অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, জঙ্গিদের এই নাশকতার মূল লক্ষ্য হলো উপত্যকার শান্তি বিঘ্নিত করা। তবে বিএসএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনো কিছু নজরে এলেই বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।