বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের জন্মদিন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নজরে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় ভোজপুরি গায়ক ছোটু ছালিয়া। লালুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে রাবড়ি দেবীর থেকে এক ‘দামি’ উপহার পেয়ে তিনি এখন খবরের শিরোনামে। রাবড়ি দেবী তাঁকে একটি হীরার ব্রেসলেট উপহার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বয়ং গায়ক। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই বিহারের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ছোটু ছালিয়া এই উপহার পাওয়ার পর আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “রাবড়ি দেবী আমাকে সবসময়ই স্নেহ করেন। আমি তাঁর কাছে একজন শিল্পী বা রাজনীতিবিদ নই, বরং তাঁর ছেলের মতো। এর আগে তিনি আমাকে সোনার আংটি ও সোনার চেইন উপহার দিয়েছিলেন। এবার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গান গাইতে আসায় তিনি আমাকে এই হীরার ব্রেসলেটটি উপহার হিসেবে দিলেন।” নিজের আনুগত্য প্রসঙ্গে গায়ক আরও বলেন, তাঁকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি এই পরিবারের প্রতি এতটা অনুগত? গায়কের সাফ জবাব, “এটি আমার পরিবার, আমি আমার পরিবার ছেড়ে যাই না।” তাঁর কথায়, শিল্পী হিসেবে তিনি লালু যাদব, রাবড়ি দেবী এবং তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পান, তা অন্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।
কিন্তু গায়কের এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা আক্রমণে নেমেছে শাসক দল জেডিইউ। দলের মুখপাত্র নীরজ কুমার এই উপহারের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, গায়ক যে উপহারটিকে হীরা বলে প্রচার করছেন, তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নীরজ কুমার বলেন, “একাদশীর মতো একটি পবিত্র দিনে রাবড়ি দেবী কি সত্যিই এত দামি হীরার ব্রেসলেট উপহার দিলেন? এর উৎস কী? গায়ক যদি দাবি করেন এটি আসল হীরা, তবে ব্রেসলেটটির বিল প্রকাশ্যে আনুন। তিনি কি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে এটি কিনেছেন, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে?”
অন্যদিকে, আরজেডি নেতা সুনীল সিং এই বিতর্কে ভিন্ন সুর শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা জানি এটা কোনো আসল হীরা নয়। কোনো শিল্পীকে কেউ এত দামী হীরার ব্রেসলেট উপহার দেয় না। এটা নিশ্চিতভাবেই কৃত্রিম বা কোনো সাধারণ গয়না। বিরোধীরা অকারণে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি পারিবারিক উপহারের ঘটনা মনে হলেও, এর নেপথ্যে বিহারের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের প্রতিফলন রয়েছে। এক শিল্পীর প্রতি রাবড়ি দেবীর এই অকৃপণ স্নেহের প্রকাশকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা দুর্নীতির ছোঁয়া বলে চিহ্নিত করতে চাইছে। তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে গায়ক ছোটু ছালিয়া এটিকে ‘মায়ের ভালোবাসা’ বলেই অবিহিত করেছেন। বিল বিতর্ক বা হীরার সত্যতা নিয়ে সরগরম বিহারের রাজনীতি। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী দলগুলির এই চাপের মুখে আরজেডি শিবির ব্রেসলেটটির বিষয়ে কোনো প্রমাণ দাখিল করে কি না।





