ভারতের শুটিং জগতের এক নক্ষত্রপতন। পিস্তল শুটিংয়ে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ তারকা এবং কিংবদন্তি কোচ জাসপাল রানা আর নেই। ক্রীড়ামহলের এক চিরচেনা হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এবং লড়াকু মানুষটি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু শুটিং জগতের মানুষই নয়, স্তম্ভিত গোটা দেশ। একদিকে যখন আশা করা হচ্ছিল তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবেন, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর প্রয়াণের খবর সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক গভীর শোকের কালো মেঘ নামিয়ে আনে।
জার্মানিতে শুটিং দলের সঙ্গে মিউনিখ বিশ্বকাপ চলাকালীন অসুস্থতা অনুভব করেন জাসপাল। টিভি৯-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রথমদিকে ব্যথার কারণকে গ্যাসের সমস্যা বলে ভুল করেছিলেন। ৩১শে মে তাঁর ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, ১লা জুন ভোররাতে তিনি জানিয়েছিলেন, “দিল্লিতে নেমেছি।” এর কয়েক ঘণ্টা পরেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর সফল অস্ত্রোপচার হয় এবং একটি স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা এবং প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী নারায়ণ সিং রানা ও মেয়ে শ্রেয়াংশী রানা নিয়মিত তাঁর শারীরিক উন্নতির কথা জানিয়েছিলেন। সুস্থতার সেই খবরে যখন সবাই আশায় বুক বাঁধছিল, তখনই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। হঠাৎই শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাসপাল রানা।
ভারতীয় শুটিংয়ের ইতিহাসে জাসপাল রানার অবদান কোনোদিনও ভোলার নয়। খেলোয়াড় হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে ১৫টি পদক জয়ের রেকর্ড হোক, কিংবা কোচ হিসেবে মনু ভাকেরের অলিম্পিকে জোড়া পদক জয়ে নেপথ্যে থাকা—সবখানেই তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষার জন্য সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়াতেন তিনি। তাঁর কোচিং শৈলী এবং শুটিং রেঞ্জের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রেরণার উৎস করে রেখেছিল।
আজ তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করা অসম্ভব। দেশের শুটিং রেঞ্জ থেকে এক লড়াকু সৈনিকের বিদায় ঘটল। অকাল এই মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মেরুদণ্ড যেন ভেঙে পড়ল। জাসপাল রানা শুধু একটি নাম নন, তিনি ছিলেন ভারতীয় শুটিংয়ের এক অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। দেশের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানাচ্ছে এই কিংবদন্তিকে।





