বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রায় ফিট থাকার নেশায় আমরা এমন অনেক খাবার ডায়েটে যোগ করছি, যা আপাতদৃষ্টিতে খুব স্বাস্থ্যকর মনে হলেও আদতে আমাদের হজম প্রক্রিয়ার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা এবং সবার হজম ক্ষমতা সমান নয়। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবারও অন্ত্রে গ্যাসের সৃষ্টি করে পেট ফাঁপিয়ে তোলে। জেনে নিন আপনার প্রতিদিনের কোন কোন খাবার এই সমস্যার মূল কারণ:
১. প্রোটিন বার: শরীরচর্চায় অভ্যস্ত ব্যক্তিদের প্রথম পছন্দ প্রোটিন বার। তবে নামী পুষ্টিবিদ অলিভার গোবলের মতে, এগুলোতে থাকা অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম সুইটনার এবং বিভিন্ন পাউডার অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা থেকে পেট ফাঁপা বা গ্যাস হতে পারে।
২. ফ্লেভারযুক্ত গ্রিক ইয়োগার্ট: ইয়োগার্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও বাজারে পাওয়া ফ্লেভারযুক্ত গ্রিক ইয়োগার্টে স্বাদ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কৃত্রিম মিষ্টিকারক যোগ করা হয়। সংবেদনশীল হজমতন্ত্রের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি অ্যাসিডিটি ও পেট ভারী হওয়ার অন্যতম কারণ।
৩. চিনিমুক্ত ক্যান্ডি ও চুইংগাম: ওজন কমাতে অনেকেই সুগার-ফ্রি ক্যান্ডি বেছে নেন। কিন্তু এগুলোতে ব্যবহৃত সরবিটল বা জাইলিটলের মতো সুগার অ্যালকোহল পেটে গ্যাস ও ব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়া কৃত্রিম রঙের ব্যবহার শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
৪. আপেল: পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আপেলে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার এবং প্রাকৃতিক শর্করা অনেকেরই হজম করতে অসুবিধা হয়। যার ফলে আপেল খাওয়ার পর অনেকেরই পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়।
৫. সালাদ ও কাঁচা সবজি: ব্রকলি, শসা বা কাঁচা শাকসবজি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ হলেও এগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। কাঁচা সবজি শরীরকে পুষ্টি দিলেও কারো কারো ক্ষেত্রে এটি পেট ফোলা বা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৬. ডাল ও লেগিউমস: ভারতীয় ডায়েটের প্রধান খাদ্য ডাল প্রোটিন ও ফাইবারে ঠাসা। কিন্তু এতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট অন্ত্রে গ্যাসের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যারা হঠাৎ করে ডায়েটে প্রচুর ডাল বা ছোলা অন্তর্ভুক্ত করেন, তাদের শরীরে এই ধরনের হজমের সমস্যা বেশি দেখা যায়।
সুস্থ থাকতে গেলে খাবারের তালিকায় ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। যদি এই খাবারগুলো খাওয়ার পর আপনার প্রায়শই পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হয়, তবে পরিমাণের দিকে নজর দিন অথবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, শরীর যা সহ্য করতে পারে না, তা স্বাস্থ্যকর হলেও এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।





