ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নরেন্দ্র মোদীর এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার দিনে তুঙ্গে উঠল রাহুল গান্ধী ও বিজেপি-র বাকযুদ্ধ। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে একটানা নির্বাচিত সরকার পরিচালনার নজির গড়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি টপকে গিয়েছেন জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ডকে। এই সাফল্যের আবহে একদিকে যখন আন্তর্জাতিক মহল থেকে অভিনন্দন বার্তা আসছে, তখন অন্যদিকে বিরোধী কংগ্রেস ও শাসকদল বিজেপি একে অপরকে আক্রমণে বিদ্ধ করতে এক মুহূর্তও ছাড়ছে না।
রেকর্ড গড়ার দিনই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদী সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। দলের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভ্রান্ত নীতির কারণে দেশের কৃষক, যুবক এবং দরিদ্র মানুষ এক চরম সংকটের মুখে। কংগ্রেস নেতার দাবি, অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর চাপানো গেলেও বাস্তব হলো কেন্দ্রের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। রাহুল গান্ধী লোকসভায় এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই আক্রমণের পাল্টা দিতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা ও প্রদীপ ভাণ্ডারী সাংবাদিক সম্মেলন করে রাহুল গান্ধীকে ‘রাজনৈতিক নৈরাজ্যবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পুনাওয়ালা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “রাহুল গান্ধীর ‘মহব্বত কি দুকান’ আসলে একটি ‘ঘৃণার শোরুম’।” তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘লিডার অব অপজিশন’ হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার পরিবর্তে ‘লিডার অব প্রোপাগান্ডা অ্যান্ড প্যানিক’ হিসেবে কাজ করছেন। কোভিড ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—সর্বত্রই অহেতুক আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়ানোই রাহুলের মূল কৌশল বলে দাবি বিজেপির।
অন্যদিকে প্রদীপ ভাণ্ডারী মনে করেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত যেখানে বিশ্বমন্দার বাজারেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, সেখানে राहुल গান্ধীর এই আচরণ কেবল রাজনৈতিক ঈর্ষা। বিজেপির দাবি, রাহুল গান্ধী নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে অস্থির করে তুলতে চাইছেন।
ইতিমধ্যে নরেন্দ্র মোদী ৪ হাজার ৩৯৯ দিন একটানা প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন থেকে নজির গড়েছেন, যেখানে জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ছিল ৪ হাজার ৩৯৮ দিনের। এই মাইলফলক উদযাপনের মাঝেই কংগ্রেস ১২ বছরের একটি ‘প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তব’ খতিয়ান জনসমক্ষে এনেছে। হাত শিবিরের অভিযোগ, মোদী সরকার গত এক দশকে শুধু মিডিয়ার হেডলাইন তৈরিতে ব্যস্ত থেকেছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এক ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিনে দুই শিবিরের এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ভারতের সংসদীয় রাজনীতির পারদকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।





