উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতির আঙিনায় ফের এক বড়সড় বিতর্ক ও উত্তেজনার আবহ। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ব্যবহৃত পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। একই সঙ্গে, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ওয়ার্ড অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।
অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষের বিপদের দিনে সাহায্যের জন্য সরকার যে ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ করেছিল, তা প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে না পৌঁছে মজুত করে রাখা হয়েছিল পার্টি অফিসে। এই খবর চাউর হতেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, জনকল্যাণমূলক ত্রাণ কেন দলীয় কার্যালয়ে বন্দি হয়ে থাকবে? এটি কি সরাসরি সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করা নয়? তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকে এলাকা জুড়ে তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রচুর পরিমাণে শুকনো খাবার, ত্রিপল এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। এই সামগ্রীগুলি দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে পড়ে ছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর। শুধু ত্রাণ নয়, তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্বাচন পরবর্তী এই সময়ে কেন একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে অস্ত্র রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা।
ঘটনার দায় অস্বীকার করে দলীয় স্তরে একে একে অভিযোগের পালটা অভিযোগ শুরু হয়েছে। অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, যে জায়গা থেকে ত্রাণ উদ্ধার হয়েছে, তা মূলত সেবামূলক কাজের জন্য ব্যবহৃত হতো। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময়ে ভোট ব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতে এই ত্রাণের অপব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির এই অবস্থানকে অনেকেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবেও দেখছেন। কারণ, একই দলের প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে বর্তমান বিধায়কের এই প্রকাশ্যে সুর চড়ানোর বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
পুলিশি প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত রিপোর্ট না এলেও, বিষয়টি নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কোনো মামলা রুজু হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা। সাধারণ মানুষের ত্রাণ আটকে রাখা এবং রাজনৈতিক দপ্তরে অস্ত্র মজুত করা—এই দুই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিরোধী দলগুলো তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সব মিলিয়ে রাজারহাট-গোপালপুরের এই ঘটনা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। এই ঘটনার জেরে দলের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। এখন দেখার বিষয়, আইনত এই ঘটনার জল কতদূর পর্যন্ত গড়ায়।





