আমের মৌসুম মানেই আনন্দ, কিন্তু সেই সঙ্গে থাকে ওজন বৃদ্ধির ভয়। অনেকেই ডায়েট নষ্ট হওয়ার ভয়ে ফলের রাজাকে এড়িয়ে চলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম নিজে ওজন বাড়ায় না, বরং আমরা যেভাবে এটি খাই, সেই পদ্ধতিই আসল সমস্যার কারণ।
পুষ্টিবিদদের মতে, আম মাঝারি গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত একটি ফল (জিআই ৫১-৬০), যাতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার। একটি মাঝারি আকারের আমে ২০০ থেকে ৩৫০ ক্যালোরি থাকে, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ক্ষতিকর নয়। বরং এটি পেট ভরা রাখতে ও হজমে সহায়তা করে। তবে বিপত্তি ঘটে যখন আমরা আমকে জুস, শেক বা আইসক্রিমের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারে রূপান্তর করি। এভাবে খাওয়ার ফলে আমের প্রাকৃতিক ফাইবার নষ্ট হয়ে যায় এবং চিনি শোষণের হার বহুগুণ বেড়ে যায়, যা অজান্তেই ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
আমের আসল স্বাদ ও উপকারিতা পেতে এর জুস না করে সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়াই শ্রেয়। এর সঙ্গে কিছু বাদাম খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও আম পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকলে পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া যেতেই পারে। মনে রাখবেন, যেকোনো খাবারের মূল চাবিকাঠি হলো পরিমিতিবোধ। তাই ওজন বাড়ার ভয় নয়, বরং সঠিক উপায়ে আম উপভোগ করুন এবং মৌসুমের এই সুস্বাদু ফলটি থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করুন।





