হাসপাতালের ঘরে মদের আসর! রোগ সারানোর জায়গা এখন নেশার আখড়া, চরম বিপাকে এলাকাবাসী

একসময় যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল এলাকার লক্ষাধিক মানুষের জীবনদায়ী ভরসাস্থল, আজ সেই হাসপাতালের করুণ দশা দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা। নদিয়ার শান্তিপুর থানার আরবান্দি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্দরমহলে এখন চিকিৎসার বদলে চলে মদ-গাঁজার আসর। হাসপাতালের বারান্দা থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘর, চত্বর—সবই এখন নেশাখোরদের অবাধ বিচরণভূমি।

প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কয়েক দশক আগে চিকিৎসা পরিষেবার অন্যতম স্তম্ভ ছিল। প্রসূতি বিভাগ থেকে শুরু করে ভর্তি পরিষেবার সুবিধা পেতেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু আজ দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারপাশ ঘিরে ধরেছে আগাছা, ভবনগুলো জরাজীর্ণ। এই অরক্ষিত পরিবেশেরই সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা।

সম্প্রতি বিজেপির এক ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ চলাকালীন হাসপাতালের বিভিন্ন ঘর থেকে বিপুল পরিমাণে মদের খালি বোতল, গাঁজার কলকে এবং হুকোর সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। দিনের বেলাতেই যেখানে মানুষের সুস্থ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন সকাল সাতটা থেকে ভিড় জমায় নেশাখোররা। স্থানীয় বাসিন্দা গণেশ দাসের অভিযোগ, বহুবার বাধা দেওয়ার পরেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই আজ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা জয়ন্ত ঘোষের কথায়, “সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে এমন নগ্ন নেশার আসর অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” বিজেপি নেত্রী অনিমা বালাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং যারা এর সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তারা পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. অনুপ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, “দুপুর তিনটা পর্যন্ত হাসপাতাল খোলা থাকে। এরপর এখানে কী হচ্ছে, তা সবসময় নজরে রাখা সম্ভব হয় না। তবে এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরাও চাই হাসপাতালটি সম্পূর্ণ নেশামুক্ত হোক।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা আশ্বাসই যথেষ্ট নয়। আরবান্দি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পুনরায় মানুষের সেবার উপযোগী করে তুলতে হলে প্রয়োজন যথাযথ প্রশাসনিক নজরদারি এবং নিয়মিত পুলিশি টহল। যে জায়গাটি ছিল মানুষের জীবনরক্ষার শেষ ভরসা, আজ তা নেশার বিষবাষ্পে ভরে ওঠায় নিরাপত্তা ও সরকারি নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এখন এই ‘নেশার আখড়া’ মুছে ফেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy