ভারতের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে বুধবার এক অনন্য মাইলফলক রচিত হলো। টানা ১২ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ সালে প্রথমবার কুর্সিতে বসার পর থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকা মোদী ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মুহূর্তে তাঁকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিলেন বিশ্বনেতারা।
এই বিশেষ দিনে মোদীকে ‘বন্ধু’ ও ‘মহান প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। তিনি ভারতের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সত্যিই একজন মহান নেতা, শক্তিশালী এবং জ্ঞানী ব্যক্তি। তাঁর সামনে সাফল্যের আরও অনেক বছর পড়ে রয়েছে।” এই অকৃত্রিম প্রশংসার জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি ভারত-আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শুধু ট্রাম্পই নন, মোদীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি লিখেছেন, “আপনি ভারতকে আমূল বদলে দিয়েছেন। ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে বের করে এনেছেন। আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক আগে কখনও এত শক্তিশালী ছিল না।”
বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা এখন আলোচনার তুঙ্গে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎজ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকসহ বিশ্বের বহু রাষ্ট্রপ্রধান নরেন্দ্র মোদীকে এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেহেরুর রেকর্ড ভাঙা মোদীর প্রশাসনিক সক্ষমতারই এক জলজ্যান্ত নিদর্শন। ২০১৪ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ ১২ বছরে পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল বিপ্লব এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের যে উত্থান ঘটেছে, তা বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এই রেকর্ড গড়ার দিনে মোদীকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের এই ইতিবাচক বার্তা ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সংহত করল। ৪,৩৯৯ দিনের এই দীর্ঘ পথচলা কেবল মোদীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি ক্রমবর্ধমান ভারতের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। বিরোধী রাজনৈতিক মহল অনেক সময় কঠোর সমালোচনা করলেও, মোদীর এই দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা ও জনকল্যাণমুখী কাজের স্বাক্ষর যে আন্তর্জাতিক স্তরেও সমানভাবে স্বীকৃত, তা আজ আবারো প্রমাণিত হলো।





