গরমের মরশুমে বাচ্চারা অনেকেই ফল খেতে অনীহা প্রকাশ করে। অথচ তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলের পুষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই সমস্যা সমাধানে দারুণ এক উপায় হতে পারে বাড়িতে তৈরি ‘গামি ক্যান্ডি’। জাম এবং ড্রাগন ফ্রুটের সংমিশ্রণে তৈরি এই ক্যান্ডি যেমন দেখতে আকর্ষণীয়, তেমনই পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি তৈরির পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং আপনার বাড়ির খুদে সদস্য বিন্দুমাত্র বায়না ছাড়াই এটি চেটেপুটে খাবে।
এই পুষ্টিকর ক্যান্ডি তৈরির জন্য খুব সামান্য কিছু উপাদানের প্রয়োজন। আপনার রান্নাঘরে থাকা ৫০০ গ্রাম তাজা জাম, ২টি ড্রাগন ফ্রুট, ১ বড় চামচ সুগার-ফ্রি সুইটনার, ৩ বড় চামচ চিয়া সিডস, ১টি পাতিলেবুর রস এবং ১ ছোট চামচ আগার-আগার পাউডার থাকলেই চলবে।
প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে জামগুলো ধুয়ে বীজ ছাড়িয়ে নিন। ড্রাগন ফ্রুটের খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। এরপর জাম ও ড্রাগন ফ্রুট একসাথে ব্লেন্ডারে দিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন যেন কোনো দানা না থাকে। এবার মিশ্রণটি প্যানে ঢেলে মাঝারি আঁচে বসান। এতে একে একে সুগার-ফ্রি সুইটনার, চিয়া সিডস, লেবুর রস ও আগার-আগার পাউডার মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে গ্যাসের ফ্লেম বন্ধ করে দিন। এবার একটি সিলিকন গামি মোল্ড অথবা চারকোণা ট্রের ওপর মিশ্রণটি ঢেলে সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে সেট করলেই তৈরি সুস্বাদু গামি ক্যান্ডি।
কেন এটি বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য সেরা?
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাগন ফ্রুটে থাকা প্রচুর ফাইবার হজমে সাহায্য করে। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি-এর মতো খনিজ উপাদান রয়েছে। অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম জাম থেকে দৈনিক চাহিদার ১০ শতাংশ ভিটামিন সি এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন কে ও এ পাওয়া যায়। যা বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই বাইরের অস্বাস্থ্যকর ক্যান্ডির পরিবর্তে আজই বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন পুষ্টি ও স্বাদের এই অনবদ্য জুগলবন্দি।





