ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে চর্চিত বিষয়—বিজেপির রণকৌশল এবং বিরোধী দলগুলির অস্তিত্ব রক্ষা। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে (DMK) ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, লোকসভায় ২২ জন সাংসদ থাকা সত্ত্বেও ডিএমকে-র ওপর সেভাবে ‘থাবা’ বসাতে দেখা যাচ্ছে না গেরুয়া শিবিরকে, যা বাংলার ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের বেলায় সম্পূর্ণ বিপরীত।
কেন এই দ্বিচারিতা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
অস্তিত্বের লড়াই: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে লড়াইটি সরাসরি এবং তীব্র। বাংলার রাজনৈতিক দখলদারি বিজেপির কাছে জাতীয় স্তরের গেমপ্ল্যানের অংশ, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে ভাঙিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা স্পষ্ট।
ভিন্ন আঞ্চলিক সমীকরণ: তামিলনাড়ুর রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ডিএমকে-র সাংগঠনিক কাঠামো এবং সেখানকার আঞ্চলিক ভোটব্যাংককে ভাঙানো বিজেপির জন্য আপাতদৃষ্টিতে অনেক বেশি কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ।
ডিজিটাল ও রাজনৈতিক নজরদারি: সূত্রের খবর, তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে জনভিত্তি কমানোর জন্য বিজেপি যে ‘মহা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করছে, তা অনেকটাই কেন্দ্রীভূত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট যেভাবে প্রকাশ্যে আসছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে—দল কি আদপেই এই আক্রমণ সামলাতে পারবে? নাকি অন্দরের কোন্দলই মমতার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে? রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, ডিএমকে বা অন্যান্য বিরোধী দল নয়, বিজেপির পাখির চোখ মূলত বাংলা।





