অনেকেই আয়কর রিটার্ন (ITR) ফাইল করাকে বছরের শেষে এক বিরাট দায়িত্ব বলে মনে করেন। তবে চলতি আর্থিক বর্ষে আইটিআর ফাইল করার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই। কর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে আগেভাগে রিটার্ন জমা দিলে আইনি ঝামেলা তো কমেই, পাশাপাশি পাওয়া যায় বেশ কিছু আর্থিক সুবিধাও।
কেন ৩১ জুলাইয়ের আগেই রিটার্ন ফাইল করা উচিত? দেখে নিন ৩টি মূল কারণ:
১. লোন ও ভিসার ক্ষেত্রে বড় সহায়: আপনার আয় ও আর্থিক স্থিতিশীলতার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সরকারি নথি হলো আইটিআর। ব্যাংক থেকে হোম লোন, পার্সোনাল লোন বা কার লোনের আবেদনের সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিগত কয়েক বছরের আইটিআর কপি যাচাই করে। এমনকি বড় অঙ্কের টার্ম ইনস্যুরেন্স পলিসি কেনা বা বিদেশে যাওয়ার জন্য ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেও আইটিআর একটি বাধ্যতামূলক ও জরুরি প্রমাণপত্র।
২. দ্রুত রিফান্ড ও সঠিক রেকর্ড: যদি আপনার বেতন বা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে অতিরিক্ত টিডিএস (TDS) কাটা হয়ে থাকে, তবে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার একমাত্র পথ হলো আইটিআর ফাইল করা। আগেভাগে রিটার্ন জমা দিলে রিফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াটিও দ্রুত সম্পন্ন হয়। এছাড়া, নিয়মিত আইটিআর ফাইল করলে বছরের পর বছর আপনার আয় এবং কর প্রদানের একটি সঠিক সরকারি রেকর্ড তৈরি থাকে, যা ভবিষ্যতের যেকোনো জটিলতায় আপনার স্বচ্ছতার প্রমাণ দেয়।
৩. লোকসান অ্যাডজাস্টমেন্টের সুযোগ: শেয়ার বাজার বা ব্যবসায়িক লেনদেনে কোনো কারণে লোকসান হলে, তা পরবর্তী বছরগুলোতে আয় থেকে সমন্বয় (Set-off) করার সুযোগ দেয় আয়কর বিভাগ। কিন্তু মনে রাখবেন, এই সুবিধা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন ফাইল করলেই পাওয়া যায়। তাছাড়া, সময়মতো ও সঠিক তথ্যে আইটিআর ফাইল করলে আয়কর দপ্তরের কাছ থেকে নোটিস পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
সহজ পরামর্শ: শেষ মুহূর্তের টেকনিক্যাল গ্লিচ বা সার্ভারের সমস্যা এড়াতে এবং তাড়াহুড়ো করে ভুল তথ্য প্রদান থেকে বাঁচতে, এখনই আপনার প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে রিটার্ন ফাইল করার পরিকল্পনা করুন। সময়মতো কাজ সেরে ফেললে যেমন আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন, তেমনই আর্থিক পরিকল্পনাও থাকে ঝকঝকে।





