তৃণমূলের অন্দরে ‘স্বৈরাচারী’ আক্রমণের সুর! নেত্রীকে সরাসরি দায়ী করে বিস্ফোরক পোস্ট সাংসদের

বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় এবং পরবর্তী ঘটনাক্রমের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার পৌঁছাল লোকসভাতেও। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন বারাসতের সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষদস্তিদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তাঁর ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাব ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সরাসরি দায়ী করলেন তিনি।

কী লিখলেন কাকলি? শুক্রবার নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার তীব্র আক্রমণ করে লিখেছেন, “একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসে বিগত চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আজ এই বিপর্যয় কি আমার একার? না, এটি পূর্বতন সরকারের ভুল নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতারই ফল।”

বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট: সাংসদদের মুখ্য সচেতক পদ থেকে গত ১৫ মে অপসারিত হওয়ার পর থেকেই দলের ওপর কাকলি ঘোষদস্তিদারের অভিমান ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যে আসে। সেদিনই তিনি সোশাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “৭৬ সাল থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা—চার দশকের আনুগত্যের এটাই কি পুরস্কার?” এরই মাঝে কাকলিকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা (CISF) প্রদান করা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

সংসদেও কি ভাঙন আসন্ন? বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহ এবং তাদের বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনা তৃণমূলের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য—“লোকসভাতেও একই প্রতিক্রিয়া হতে চলেছে”—তৃণমূলের অন্দরের অস্থিতিশীলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। কালীঘাটের দলীয় বৈঠকেও বিধায়কদের অনুপস্থিতি এবং নেত্রীর কর্মসূচিতে গুটিকয়েক নেতার উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতের মুঠো থেকে তৃণমূল ক্রমেই ফসকে যাচ্ছে।

অস্তিত্বের সংকটে তৃণমূল: ২৮ বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেস আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। বিধানসভার বিধায়কদের পথ ধরে এবার লোকসভার সাংসদরাও বিদ্রোহের পথে হাঁটবেন কি না, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ এই ফাটল দলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy