পশ্চিমবঙ্গে খুব শীঘ্রই পুরোপুরি কার্যকর হতে চলেছে প্রিপেড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা। মোবাইল ফোনের রিচার্জের মতোই এবার থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আগে খরচ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন রাজ্যের বাসিন্দারা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর রাজ্যে এসে এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
তবে স্মার্ট মিটার চালুর ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একটিই বড় প্রশ্ন দানা বেঁধেছে— স্মার্ট মিটার লাগালে কি কারেন্টের বিল আগের তুলনায় বেশি আসবে?
কী বলছে সত্যিটা? বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্মার্ট মিটার বসানোর সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এর কারণগুলো হলো:
ভুল রিডিংয়ের অবসান: স্মার্ট মিটারে নিখুঁত রিডিং পাওয়া যায়, ফলে ম্যানুয়াল মিটার রিডিংয়ের সময় যে ত্রুটি বা ‘হিউম্যান এরর’ হতো, তা আর থাকবে না।
খরচের ওপর নিয়ন্ত্রণ: যেহেতু এটি প্রিপেড সিস্টেম, তাই ব্যবহারকারী নিজে দেখতে পারবেন কত টাকা ব্যালেন্স অবশিষ্ট আছে। ফলে অহেতুক বিদ্যুৎ অপচয় কমানো সম্ভব হবে।
ট্রান্সমিশন লস কম: স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে সিস্টেম লস কম হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও উন্নত করবে।
কেন বিল বেশি মনে হতে পারে? অনেকের ক্ষেত্রে প্রিপেড মিটার বসানোর পর বিল বেশি মনে হওয়ার মূল কারণ হলো— আগে পোস্টপেইড ব্যবস্থায় মিটারের রিডিং অনেক সময় ঠিকমতো নেওয়া হতো না বা আগের মাসের বকেয়া জমে থাকত। প্রিপেড মিটার আসার পর সেই পুরোনো বকেয়া বিল শোধ করতে গিয়ে খরচ বেশি মনে হতে পারে। এছাড়া, স্মার্ট মিটারের মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছ হওয়ায় গ্রাহকরা তাদের প্রকৃত ব্যবহারের হিসাব নিজেই দেখতে পান, যা হয়তো আগে অজানা ছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের দাবি, এই ব্যবস্থা বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং গ্রাহকবান্ধব করে তুলবে। এতে দুর্নীতি বা বিল নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা অনেকাংশেই কমে যাবে।
মনে রাখবেন: স্মার্ট মিটার কোনো ‘খরচ বাড়ানোর যন্ত্র’ নয়, বরং এটি আপনার বিদ্যুতের ব্যবহারের সঠিক হিসাব রাখার একটি স্মার্ট উপায়।





