বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কিন্তু এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মুজাফফরপুর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোররাতে হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে আগুন লাগে। ওই সময় আইসিইউতে ১৩ থেকে ১৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগীদের উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ব্যাহত হয়। যদিও জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় বাকি রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তবুও চারজনের প্রাণহানি এড়ানো যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা, আইসিইউ-এর কোনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রশাসনের সাথে তদন্তের কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যখন সমগ্র মুজাফফরপুর শোকস্তব্ধ, ঠিক সেই সময়ে বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমারকে জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝার সাথে পাটনা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়। মুজাফফরপুরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা তো দূরের কথা, ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়াই জানাননি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল আরজেডি (RJD) তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। আরজেডি-র অভিযোগ, মুজাফফরপুরের ওই হাসপাতালটি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে চলছিল এবং স্বাস্থ্য বিভাগের যোগসাজশেই তা সম্ভব হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃত ও দগ্ধদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো তো দূরে থাক, মন্ত্রী মশাই মুখে হাসি নিয়ে দিল্লি পাড়ি দিলেন। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।” বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে আরজেডি প্রশ্ন তুলেছে যে, এমন একজন মন্ত্রী কি রাজ্য পরিচালনার যোগ্য?
তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার সমাজমাধ্যমে একটি শোকবার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “মুজাফফরপুরের এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। জেলা প্রশাসনকে আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।” কিন্তু মন্ত্রীর এই দায়সারা শোকবার্তা এবং দিল্লি সফরের বিষয়টি বিহারবাসীর মনে ক্ষোভের আগুন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী দলের চাপের মুখে সরকার প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।





