রাজ্য রাজনীতিতে এখন ভাঙন-শঙ্কার কালো মেঘ। একদিকে বিরোধী শিবির থেকে শাসকদলের অন্দরে নজর, অন্যদিকে তৃণমূল বিধায়কদের গতিবিধি নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। সাম্প্রতিককালে তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা এবং জাভেদ খানের সঙ্গে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন বিশ্বাসের সাক্ষাৎ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে খবর রটেছে, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক বা বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলেরই একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের অন্দরে যখন অস্বস্তি বাড়ছে, ঠিক তখনই শিউলি এবং জাভেদের মতো বিধায়কদের সাম্প্রতিক তৎপরতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। এমএলএ হস্টেলে গিয়ে বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করা এবং তারপর চা চক্রের মতো বিষয়গুলোকে রাজনীতির কারবারিরা কেবল সৌজন্য বলে মানতে নারাজ। অনেকের দাবি, এর পেছনে রয়েছে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া নতুন কোনো মেরুকরণ।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, ঋতব্রতদের সঙ্গে আর কারা এই নতুন সমীকরণে শামিল হতে চলেছেন? বিধায়কদের এই ‘গাছাড়া’ ভাব কি তবে আসন্ন কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? যদিও শিউলি সাহা ব্যক্তিগত কাজে হস্টেলে যাওয়ার কথা বলে জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেছেন, তবুও তৃণমূলের অন্দরের ‘বিদ্রোহী’ কণ্ঠস্বরগুলোকে নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তার প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝে শাসকদলের এই ভাঙন-আশঙ্কা এখন ডেইলিহান্টের পাঠকদের কাছেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে কালীঘাটের অন্দরে শলাপরামর্শ, অন্যদিকে বিদ্রোহীদের হঠাৎ ‘নিষ্ক্রিয়’ বা ‘সক্রিয়’ হয়ে ওঠা—সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতির চিত্রপট এখন রীতিমতো নাটকীয়। দলীয় নেতৃত্ব কি এই পরিস্থিতি সামলাতে পারবে, নাকি ভাঙনের ঢেউ আরও বড় আকার নেবে? উত্তর খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল।





