উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় ট্রেকিং করতে গিয়ে এক এমবিএ ছাত্রীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিখোঁজ তরুণীর নাম ববিতা পাণ্ডে, যিনি নৈনিতালের রামনগরের বাসিন্দা এবং পেশাগতভাবে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ববিতা তাঁর দুই বন্ধুর সঙ্গে উত্তরকাশীর অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য ‘দয়ারা বুগিয়াল’-এ গিয়েছিলেন। ট্রেকিংয়ের মাঝে রাতে তাঁরা একটি তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অভিযোগ, গভীর রাতে ববিতা হঠাৎই তাঁবু থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় তাঁর বন্ধুরা তড়িঘড়ি আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও ববিতার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও নিখোঁজের কোনো সুরাহা না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছানো হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ, বনদফতর এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ)-এর যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। দয়ারা বুগিয়াল ও তার পার্শ্ববর্তী ঘন জঙ্গল, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং বিভিন্ন ট্রেকিং রুটে দিনরাত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তরুণীর কোনো খোঁজ মেলেনি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রাতের অন্ধকার বা কুয়াশার কারণে ওই তরুণী পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তবে এলাকাটি ঘন জঙ্গল ও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির জন্য কুখ্যাত হওয়ায়, কোনো বন্যপ্রাণীর হামলার আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকারী দলের মতে, প্রায় ১০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই এলাকায় রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ‘হাইপোথার্মিয়া’ বা তীব্র ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও প্রবল। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন দ্রুত ববিতাকে খুঁজে বের করার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতা চালাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দয়ারা বুগিয়াল ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হলেও এর ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এখানে এলেও, সামান্য অসাবধানতায় বড় বিপদের সম্ভাবনা থাকে। এদিকে, ববিতার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে প্রশাসন। উদ্ধারকারী দল দিনরাত এক করে তল্লাশি চালালেও এখনও পর্যন্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলেনি। সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজ তরুণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ততই বাড়ছে। ববিতাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার জন্য এখন প্রহর গুনছে তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা।





