স্বামীর ডিভোর্স ঠেকাতে বীভৎস খুনের ছক! এক বছর পর ফাঁস স্ত্রী ও প্রেমিকের ‘ইলেকট্রিক’ রহস্য

ছত্তিশগড়ের কাঙ্কেরে এক বছর আগে ঘটে যাওয়া মুকেশ বিশ্বাস মৃত্যু রহস্যের জট অবশেষে খুলেছে। পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা ছিল না, বরং ছিল এক ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সরস্বতী বিশ্বাস, তার প্রেমিক ইন্দ্রজিৎ দাস এবং তাদের দুই সহযোগী সুরেন্দ্র বাছাড় ও রঞ্জিত সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ মে, ২০২৫। কাঙ্কের জেলার বান্দে থানা এলাকার একটি খামার থেকে ৩২ বছর বয়সী মুকেশ বিশ্বাসের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ইঙ্গিত থাকলেও, মৃতদেহের পোড়া ক্ষত চিহ্ন পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। সেই সময় ঘটনাস্থলে কোনো জোরালো সূত্র না মেলায় মামলাটি অমীমাংসিত থেকে গিয়েছিল। তবে পুলিশ হাল ছাড়েনি। নতুন করে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে সাইবার সেলের কারিগরি সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে পুলিশের সাইবার টিম মৃতের স্ত্রী সরস্বতী বিশ্বাসের সাথে ইন্দ্রজিৎ দাসের গোপন সম্পর্কের তথ্য হাতে পায়। পুলিশ জানতে পারে, মুকেশ তার স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জেনে ফেলেছিল এবং তাদের মধ্যে নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। চরম পর্যায়ে পৌঁছে মুকেশ তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ডিভোর্সের এই খবর সামনে আসতেই সরস্বতী তার প্রেমিক ইন্দ্রজিৎ দাসের সঙ্গে মিলে স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন মুকেশকে কোনো এক বাহানায় বান্দে এলাকার রঞ্জিত সরকারের খামারের একটি কুঁড়েঘরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করানো হয়। মুকেশ যখন পুরোপুরি অচেতন, তখন অভিযুক্তরা টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে তাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মুকেশের। পুলিশি তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে প্রযুক্তিগত নজরদারি, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণের সামনে টিকতে পারেনি অভিযুক্তরা। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে তারা খুনের কথা স্বীকার করে। খুনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পুনর্গঠন করে পুরো ষড়যন্ত্র উন্মোচন করে। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে। ন্যায়বিচারের পথে এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।