টেট পরীক্ষায় সময়সীমা বৃদ্ধি শীর্ষ আদালতের, তবুও মাথায় হাত ৩৩ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের! কী জানাল কোর্ট?

প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে বড়সড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, প্রাথমিক শিক্ষকতার জন্য টেট (TET) পাশ করা বাধ্যতামূলক। তবে প্রবীণ শিক্ষকদের কথা মাথায় রেখে আদালত আগের নির্দেশে সামান্য সংশোধন এনে সময়সীমা এক বছর বৃদ্ধি করেছে।

আদালতের নির্দেশ ও সংশোধন: আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ২০২৭ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। শুক্রবারের রায়ে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এই বর্ধিত সময় মিললেও, টেট পাশ করার শর্তে কোনো ছাড় দেয়নি শীর্ষ আদালত।

সমস্যার মূলে কী? আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, যে সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষক টেট উত্তীর্ণ নন, তাঁদের দু’বছরের মধ্যে পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। অন্যথায়, তাঁদের চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিতে হবে। যদিও পাঁচ বছরের কম চাকরির মেয়াদ বাকি রয়েছে এমন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

শিক্ষকদের দাবি ও উদ্বেগ: এই নির্দেশের ফলে সারা দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। শিক্ষকদের দাবি:

  • যাঁরা ২০১১ সালের আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং ২০-৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তাঁদের ওপর এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিহীন।

  • শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ কর্মজীবনের পর হঠাৎ করে এই ‘আইনি প্যাঁচে’ পড়ে তাঁরা চরম মানসিক চাপে পড়েছেন।

  • পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাই মাসে প্রথম টেট শুরু হয়। ফলে তার আগে যারা কাজে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের এখন নতুন করে পরীক্ষায় বসার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

শেষ কথা: শিক্ষক সংগঠনগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে সময়সীমা বাড়ানো হলেও, টেট উত্তীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে আদালত অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy