ভারতের ট্রেন ভ্রমণের কথা বললে সাধারণত রাজধানী, শতাব্দী বা বন্দে ভারতের নাম উঠে আসে। কিন্তু বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার কথা বললে, ‘মহারাজাস এক্সপ্রেস’-এর ধারেকাছে কেউ নেই। একে অনেকে ‘প্যালেস অন হুইলস’ বা চাকা লাগানো রাজপ্রাসাদ বলেও চেনেন। এই ট্রেনে পা রাখা মানেই যেন কোনো রূপকথার জগতে প্রবেশ করা। রাজকীয় পালঙ্ক, কারুকার্যময় অন্দরসজ্জা, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ থেকে ব্যক্তিগত বাটলার—সব মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
রাজকীয় আভিজাত্যের ঠিকানা:
মহারাজাস এক্সপ্রেসের প্রতিটি কামরা যেন একেকটি ভারতীয় রাজপ্রাসাদের প্রতিচ্ছবি। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট’। ৪৪৮ বর্গফুটের এই কামরায় রয়েছে দুটি বেডরুম, একটি লিভিং রুম, আধুনিক বাথরুম, মিনিবার এবং ২৪ ঘণ্টা ব্যক্তিগত বাটলারের পরিষেবা। এই চরম বিলাসিতার স্বাদ পেতে একজন পর্যটককে গুনতে হয় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। পিক সিজনে এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ২১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
প্যাকেজ ও ভাড়ার বৈচিত্র্য:
বিলাসিতার নিরিখে ট্রেনের বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। সবচেয়ে সাশ্রয়ী ‘ডিলাক্স কেবিন’-এ ৪ দিনের ‘ট্রেজার্স অফ ইন্ডিয়া’ প্যাকেজের জন্য খরচ পড়ে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। তবে ৭ দিনের দীর্ঘ সফরে জনপ্রতি খরচ হতে পারে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়াও ‘ইন্ডিয়ান স্প্লেন্ডার’, ‘হেরিটেজ অফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘ইন্ডিয়ান প্যানোরামা’-র মতো একাধিক প্যাকেজ রয়েছে, যা ভ্রমণের সময়কাল এবং গন্তব্যের ওপর নির্ভর করে। এই ট্রেনটি জয়পুর, আগ্রা, বারাণসী, উদয়পুর এবং রণথম্বোরের মতো ঐতিহ্যবাহী শহরগুলো ভ্রমণ করায়। প্রতিটি স্টপেজে পর্যটকদের জন্য আলাদা গাইড এবং দর্শনের সুব্যবস্থা থাকে।
খাবার ও আতিথেয়তা:
টিকিটের দামেই অন্তর্ভুক্ত থাকে খাবার, গাইডের খরচ এবং দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রবেশের ফি। ট্রেনের ‘রঙমহল’ ও ‘ময়ূরমহল’ নামক দুটি লাক্সারি রেস্তোরাঁয় দেশি ও বিদেশি পদের এক অসাধারণ সম্ভার মেলে। আতিথেয়তায় কোনো খামতি না রেখে যাত্রীদের রাজার মতো সেবা দেওয়াই এই ট্রেনের মূল বৈশিষ্ট্য।
গরমের মরশুমে নতুন যাত্রা:
এতদিন পর্যন্ত এই বিলাসবহুল ট্রেনটি কেবল সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলত। কিন্তু পর্যটকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রথমবার মে মাসের প্রচণ্ড গরমেও ট্রেনটি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর পর গরমের মরশুমে চাকা গড়াবে এই বিলাসবহুল ট্রেনের। রাজস্থানের প্রচণ্ড উষ্ণতা কাটিয়ে রাজকীয় আভিজাত্যে ভারত ভ্রমণের এই বিরল সুযোগ পেতে অনেকেই মুখিয়ে থাকেন। সবমিলিয়ে, মহারাজের এই ট্রেন আজও ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও আকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।





