রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেই বদলে গেছে চিত্র। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে এখন উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। ট্রলি, লোটা-কম্বল নিয়ে হাজির হয়েছেন শত শত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। প্রত্যেকের লক্ষ্য একটাই—দ্রুত সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিতেই সীমান্তে এই ছবি দেখা দিয়েছে।
গত কয়েক দিনে হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ছাউনি করে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষকে। সোমবার ও মঙ্গলবার—পরপর দুদিন চেকপোস্টের কাছে জড়ো হয়েছেন প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশো মানুষ। বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ মানুষই এতদিন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচারিকা বা শ্রমিকের কাজ করতেন। নতুন সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডির্পোট’ নীতির কথা শুনেই তাঁরা আতঙ্কে দেশ ছাড়তে চাইছেন।
এক অনুপ্রবেশকারীর বয়ান থেকে জানা যায়, কাজের অভাব এবং সরকারি কড়াকড়ির ফলে বর্তমানে ভারতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, এতদিন অনেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকলেও এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিকূল। হোল্ডিং সেন্টার তৈরির খবর পৌঁছাতেই অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, যাদের কাগজপত্র সঠিক নেই, তাদের খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই এই কাজ চলছে। যারা এখনো লুকিয়ে আছে, তাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজও জোরকদমে চলছে। সব মিলিয়ে সীমান্ত এলাকা এখন তপ্ত। বেলা বাড়ার সাথে সাথে হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় কমার বদলে বাড়ছে। প্রশাসনিক কঠোরতায় সীমান্ত পারাপারের এই হিড়িক আগামী কয়েকদিন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





