গোয়ালিয়রের গোসপুরা এলাকা থেকে প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর পারিবারিক বিবাদের ঘটনা, যা রীতিমতো স্তম্ভিত করেছে স্থানীয় প্রশাসনকে। বৃদ্ধা শাশুড়ি আতার দেবী ও তাঁর পুত্র কমল কিশোর অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূ লাতেশ মাহোর তাঁর স্বামীর গায়ের রঙ ‘কালো’ হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত তাঁকে বর্ণবাদী অপমান করতেন। শুধু অপমান নয়, বিয়ের পরপরই লাতেশ দামী আইফোন ও এয়ার কন্ডিশনারের মতো বিলাসবহুল সামগ্রীর দাবি জানাতে শুরু করেন। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই আবদার মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়লে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, লাতেশ প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির সবাইকে মিথ্যে মামলায় জেলে পাঠানোর হুমকি দিতেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, পুত্রবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুবার আত্মহত্যার নাটক করেছেন বলে অভিযোগ। এই মানসিক চাপে পুরো পরিবার এখন আইনগতভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের দাবি, লাতেশের বাবা-মা ফোনে তাঁকে ক্রমাগত উস্কানি দিতেন, যাতে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হেনস্থা করে ডিভোর্স আদায় করতে পারেন।
পুত্র কমল কিশোর বিচক্ষণতার সঙ্গে গোপনে স্ত্রীর এই অমানবিক আচরণের ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছেন। স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না মেলায় অবশেষে মা ও ছেলে ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হন। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছেন। পেশ করা ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণাদি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষকেই তলব করা হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হবে। পারিবারিক এই অশান্তি এখন আইনি জটিলতায় মোড় নিয়েছে।





