সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-কে ঘিরে ক্রমেই দানা বাঁধছে বিতর্ক। উত্তরপত্রের অসঙ্গতি থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট বিভ্রাট—সব মিলিয়ে চরম ক্ষোভের মুখে পড়েছে এই কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ড। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক স্ক্যান করা উত্তরপত্র পাওয়ার আবেদন নিয়ে সিবিএসই-র আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। অভিযোগ, বোর্ডের অনলাইন সিস্টেম (ওএসএম) ঠিকমতো কাজ করছে না, যার ফলে অনেকেই সঠিক সময়ে আবেদন করতে পারছেন না। এরই মধ্যে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও জোরালো হয়েছে।
তবে এসবের চেয়েও বড় ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খাতা জালিয়াতির। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মোক্ষ যাদব এবং বেদান্ত শ্রীবাস্তবের মতো পড়ুয়ারা সিবিএসই-র বিরুদ্ধে সরাসরি উত্তরপত্র বদলানোর অভিযোগ তুলেছেন। মোক্ষ যাদবের দাবি, তিনি যখন ইংরেজিতে কম নম্বর পাওয়ার পর স্ক্যান করা কপির জন্য আবেদন করেন, তখন বোর্ডের পাঠানো কপিতে দেখা যায় কেবল প্রথম পৃষ্ঠাটি তাঁর, বাকি পৃষ্ঠাগুলো সম্পূর্ণ অন্য এক ছাত্রের। এমনকি, মোক্ষ যে ধরনের কলম ব্যবহার করেননি, অন্য ছাত্রের খাতায় সেই কলমের ব্যবহার স্পষ্ট। এই ঘটনার পর মোক্ষ যাদব সিবিএসই এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ঘটনাটি এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামের এক ছাত্র পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই অভিযোগ তুলেছিলেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বোর্ড বাধ্য হয়ে ভুল স্বীকার করে সঠিক খাতাটি পাঠায়। মোক্ষের আইনজীবী বিনীত জিন্দাল বোর্ডের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন। আইনজীবীর দাবি, বোর্ডের এই ভুলে ছাত্রটি শুধু মানসিক চাপেই নেই, তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ওপরও বড় ধরনের কালো মেঘ নেমে এসেছে।
আইনি নোটিশে সিবিএসই-কে দুই দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, অবিলম্বে ছাত্রটির মূল উত্তরপত্র সরবরাহ করতে হবে এবং বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করতে হবে। একইসঙ্গে, দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, দুই দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বোর্ডকে দিল্লি হাইকোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সিবিএসই-র মতো একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্তরপত্র গুলিয়ে ফেলার এই অভিযোগ শিক্ষা মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার, বোর্ড কীভাবে এই আইনি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে এবং পড়ুয়াদের হারানো ভরসা পুনরায় অর্জন করে।





