ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকেছে আকাশ, নরেন্দ্রপুরের কালি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে বাসিন্দারা

মঙ্গলবার সকালের শুরুতেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী রইল দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার রামচন্দ্রপুর এলাকা। এদিন সকালে ওই এলাকার একটি কালি তৈরির কারখানায় হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ, যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে আচমকাই কারখানার ভিতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয়রা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত পুরো কারখানাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কালি তৈরির কাজে ব্যবহৃত প্রচুর পরিমাণে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ কারখানায় মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগুন লাগার পরই কারখানার ভিতর থেকে একাধিকবার বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা গিয়েছে বলে এলাকাবাসীদের একাংশের অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তীব্র উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক এলাকাবাসীই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছেন।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। প্রথমে দমকলের দুটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও আগুনের ভয়াবহতা ও তীব্রতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে মোট ৬টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, আগুন যেন পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো কারখানা বা বসতবাড়িতে ছড়িয়ে না পড়ে।
নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলের চারপাশে বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তবে কৌতূহলী মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। আপাতত বড় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে কারখানার ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দমকল কর্মীরা।
এই ঘটনা শিল্পাঞ্চল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত রাসায়নিক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন যে, কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফরেনসিক দল ও দমকলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করবেন বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। কারখানায় নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছিল কি না, সে বিষয়টিও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতেই দমকলের সব কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।