পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দেশের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং তিনটি বিশেষ ক্ষেত্র— জ্বালানি (Fuel), সার (Fertiliser) এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (Foreign Exchange Reserves)—যাকে তিনি তিনটি ‘F’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতির সামনে চ্যালেঞ্জ:
জ্বালানি ও সারের দাম: অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজস্ব ক্ষতি: সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রীর কথায়, এর ফলে সরকারি কোষাগারের প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হলেও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
বকেয়া মেটানোর নির্দেশ: ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্প (MSME) সংস্থাগুলির আটকে থাকা ৮ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি সংস্থাগুলিকে ৪৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘ধীরে চলো’ ও সতর্কতার বার্তা: অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট স্থিতিশীল। অযথা হতাশা বা নৈরাশ্যের পরিবেশ তৈরি না করে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অপ্রয়োজনীয় খরচ বা অতিরিক্ত সোনা কেনা এবং বিলাসিতার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন।
জ্বালানির দামে প্রভাব: আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে গত ১৫ মে থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে ক্রমাগত বৃদ্ধি দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ভারতের জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে, তাই সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।





