সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় র্যাপার ও সঙ্গীতশিল্পী স্যান্টি শর্মা। উঠতি রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি-কে সমর্থন করার আগে দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি যে পোস্টটি করেছেন, তা নেটপাড়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন মন্তব্য করলেন স্যান্টি? কী এমন তথ্য তিনি সামনে এনেছেন যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে?
পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে স্যান্টি শর্মা সিজেপি-র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তাঁর মতে, সিজেপি কোনো গুরুতর রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং এটি কেবলই একটি ‘ইন্টারনেট নাটক’। স্যান্টি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান প্রজন্মের একাংশ কোনো যাচাই-বাছাই না করেই নিছক ট্রেন্ডের বশে এই ধরনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। র্যাপারের দাবি, তথাকথিত এই সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে আম আদমি পার্টির যোগসূত্র রয়েছে এবং অতীতে তিনি এমন অনেক পোস্ট করেছেন যা ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে।
কেন স্যান্টি শর্মা চিন্তিত?
গণতন্ত্রে সমালোচনা থাকা জরুরি, কিন্তু স্যান্টির উদ্বেগের জায়গা হলো আন্দোলনের মাধ্যম। তিনি মনে করেন, লক্ষ্যহীন এবং আবেগপ্রবণ অনলাইন আন্দোলন সমাজকে অস্থির করে তুলতে পারে। র্যাপারের কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যালগরিদম, মিম এবং ভাইরাল কনটেন্ট এখন মানুষের মতামত তৈরি করছে।” সবথেকে উদ্বেগজনক তথ্য হিসেবে তিনি দাবি করেছেন, এই সিজেপি আন্দোলনকে সমর্থন করার পেছনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ভারত-বিরোধী বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর হাত রয়েছে। ডিজিটাল কারসাজি এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর এই কৌশলের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের অবিলম্বে সতর্ক হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
কে এই স্যান্টি শর্মা?
স্যান্টি শর্মা কেবল একজন র্যাপার বা গায়ক নন, তিনি একজন প্রভাবশালী ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব। বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি এবং ডিজিটাল কারসাজির বিরুদ্ধে নিজের স্পষ্ট ও সাহসী মতামতের জন্য তিনি পরিচিত। নিজের গান এবং বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে বিতর্কিত অথচ বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে জায়গা করে নিয়েছেন।
সিজেপি-র নেপথ্য কাহিনি
উল্লেখ্য, সিজেপি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, পড়াশোনার চাপ ও শাসনব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে কাজ করার দাবি জানালেও, স্যান্টি শর্মার এই বিস্ফোরক দাবির পর এখন আন্দোলনটির স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন নেটনাগরিকদের একাংশ। স্যান্টির এই পোস্ট সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক উত্তাপ ছড়িয়েছে। তিনি বারবার দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন, কোনো ট্রেন্ডে গা ভাসানোর আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অতীত ইতিহাস ও তাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে।





