বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রথমবারের মতো সংগঠনটির এক নারী কমান্ডার জনসমক্ষে বার্তা দিলেন। বিএলএ-র গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’-এ প্রকাশিত প্রায় ১১ মিনিটের একটি ভিডিওতে কমান্ডার শায়নাজ বালুচ ঘোষণা করেছেন, বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার সংগ্রাম এখন এক নতুন ও শক্তিশালী পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
ভিডিওটিতে শায়নাজকে বিএলএ-র প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বেলুচ নারীরা আর ঘরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং লড়াইয়ের সম্মুখভাগে তাঁরা সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বার্তাটিতে তিনি বেলুচ জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আন্দোলনের সমর্থনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ভিডিওটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন বিএলএ-তে মূলত পুরুষ নেতাদেরই আধিপত্য ছিল। শায়নাজের প্রকাশ্যে আসা সংগঠনটির কৌশলে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভিডিওর কিছু অংশে সামরিক ধাঁচের দৃশ্য, আমেরিকান অস্ত্রশস্ত্র এবং ড্রোন অভিযানের ব্যবহার স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে বিএলএ এখন প্রযুক্তিগতভাবে ও সামরিক দিক থেকে অনেক বেশি আধুনিক হয়ে উঠছে।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে বিএলএ। তাদের অভিযোগ, বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান বিএলএ-কে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে তাদের কঠোর হাতে দমনের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, শায়নাজের এই বার্তা একদিকে যেমন বিএলএ-র প্রচার অভিযানের নতুন কৌশল, তেমনি অন্যদিকে বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এক নতুন ও জটিল সমীকরণ তৈরি করল।





