রাজ্যে কয়লা পাচার মামলায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। নতুন বছরের তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবার শহরের একাধিক প্রভাবশালী কয়লা ব্যবসায়ী এবং একজন প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিককে তলব করেছে। ইডি সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তলব করা ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন কৃষ্ণ কয়াল, রীতেশ সিং, লোকেশ সিং, যুধিষ্ঠি ঘোষ, নরেন্দ্র খারকা এবং প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। বিশেষ করে মনোরঞ্জন মণ্ডলের নাম জড়ানোয় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়লা পাচারের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’ নিতেন এই পুলিশ আধিকারিক। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্য পুলিশের তরফে তাঁকে আগেই ক্লোজ করা হয়েছিল। ইডির এই তলব সেই অভিযোগের ভিতকেই আরও জোরালো করল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক লেনদেনের জাল ছিঁড়তে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। গত ১৫ এপ্রিল ইডি একটি বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছিল। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর এলাকায় অবৈধ কয়লা খনন ও পাচারের মামলায় প্রায় ১৫৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার সম্পত্তি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত (অ্যাটাচ) করা হয়। ইডির দাবি, এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি শ্যাম গ্রুপের অধীনে ছিল, যা সঞ্জয় অগ্রবাল এবং ব্রিজ ভূষণ অগ্রবালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন (২০০২) অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
তদন্তের পরিসর বাড়ার সাথে সাথে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণও হু হু করে বাড়ছে। রাজ্যে কয়লা পাচার মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪৮২ কোটি ২২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে এই মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। তখনই প্রথম মূল অভিযুক্ত হিসেবে অনুপ মাজি ওরফে লালার নাম সামনে আসে। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের বাসিন্দা লালার একাধিক বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই ও ইডি কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস পায়। এই মামলায় লালা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ গুরুপদ মাজি-সহ মোট চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যদিও লালা পরবর্তীকালে ২০২৪ সালে জামিন পান।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতা এখন রাজনৈতিক মহলেও বড় আলোচনার বিষয়। একদিকে যখন রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ এবং দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম, ঠিক তখনই কয়লা পাচারকাণ্ডের এই নয়া মোড় শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ইডির এই তলব তালিকা আরও লম্বা হবে কি না, বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে কে কে নতুন কোনো তথ্য ফাঁস করেন, সেদিকেই নজর এখন সাধারণ মানুষের। প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কয়লা পাচারের সাথে পুলিশের একাংশের যোগসাজশ কতদূর বিস্তৃত, সেই রহস্যেরই সমাধান খুঁজছেন তদন্তকারীরা।





