তীব্র দাবদাহে বাঙালির তৃপ্তির নাম হলো পান্তা ভাত। পেট ঠান্ডা রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। গ্রাম থেকে শহর—গ্রীষ্মের দুপুরে এক থালা পান্তা, সঙ্গে কাঁচালঙ্কা আর পেঁয়াজ মানেই একমুঠো প্রশান্তি। কিন্তু স্বাদ বাড়াতে গিয়ে অনেকেই পান্তার সঙ্গে কাঁচা সরষের তেল মিশিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ ভুলটি আপনার প্রিয় খাবারকে নিমেষেই বিষভাতে পরিণত করতে পারে।
পান্তা ভাত মূলত ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাবার। এটি ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ায় ভরপুর থাকে, যা আমাদের হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, পান্তার সঙ্গে কাঁচা সরষের তেল মিশিয়ে খেলে এর সমস্ত পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কাঁচা সরষের তেল অত্যন্ত কড়া ও ঝাঁঝালো প্রকৃতির হয়। এটি সরাসরি পাকস্থলীতে গেলে এর আবরণীতে (স্টমাক লাইনিং) প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে পেট ঠান্ডা হওয়ার পরিবর্তে তৈরি হয় তীব্র অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা এবং দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা।
বাজারে প্রাপ্ত অনেক সরষের তেলেই ভেজালের ছড়াছড়ি থাকে। রান্নার সময় তেল ভালোভাবে গরম করা হলে ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব কিছুটা হলেও কমে যায়। কিন্তু পান্তার সঙ্গে যখন আপনি কাঁচা তেল মেশাচ্ছেন, তখন ওই ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানগুলো সরাসরি আপনার শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে লিভারের ক্ষতি, বদহজম, পেট ফাঁপা এবং দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের সমস্যা (যেমন- IBS) দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই আলসার বা পেটের জটিল সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য কাঁচা তেল মাখা পান্তা আক্ষরিক অর্থেই বিষের মতো কাজ করে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পান্তার আসল উপকারিতা পেতে কাঁচা তেলের ব্যবহার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। স্বাদ বাড়াতে সামান্য বিটনুন, পাতিলেবুর রস, কাঁচা বা পোড়া লঙ্কা এবং পেঁয়াজই যথেষ্ট। এর সঙ্গে আলুভাতে, বড়া বা ভাজা মাছ রাখা যেতে পারে, যা পান্তার স্বাদকে পূর্ণতা দেয়। সুস্থ থাকতে চাইলে এবং পান্তার গুণমান বজায় রাখতে এই সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। তাই আজকের পর থেকে পান্তার থালায় বসার আগে সাবধান হন—স্বাদের লোভে উপকারী পান্তাকে ক্ষতিকর করবেন না। মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই গ্রীষ্মে আপনাকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখবে।





