ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন তারকা বোলার তথা আম আদমি পার্টির (AAP) রাজ্যসভার সাংসদ হরভজন সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। শুক্রবার সকাল থেকেই নিজের দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ ঝড় তুলেছেন ‘টার্বিনেটর’। কেজরিওয়ালের দলের অন্দরের দুর্নীতি নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য কার্যত বোমা ফাটার মতো কাজ করেছে।
হরভজনের সরাসরি অভিযোগ, পঞ্জাবে মন্ত্রী পদ থেকে শুরু করে রাজ্যসভার আসন—সবই টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও কেনাবেচার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। রাঘব চাড্ডার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হরভজন সিংয়ের এই বিদ্রোহ আম আদমি পার্টির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এখনও দলের সাংসদ পদে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে এমন গুরুতর অভিযোগ তুললেন?
সাংসদ হরভজনের দাবি, এই লেনদেনের বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত প্রমাণ রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কারা টাকা দিয়েছেন, কত টাকার বিনিময়ে এসব হয়েছে, কাকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় এই অন্ধকার লেনদেন সংঘটিত হয়েছে—পুরো খতিয়ান তাঁর কাছে আছে। উপযুক্ত সময়ে এই সব নথি ও তথ্য তিনি জনসমক্ষে আনবেন বলেও হুঙ্কার দিয়েছেন। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি হরভজন সিং সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন?
অনেকেই মনে করছেন, দিল্লির রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল নিয়ে হরভজন সিং অসন্তুষ্ট ছিলেন। বর্তমানে তাঁর এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে, পঞ্জাবের শাসক দলের অন্দরে ফাটল চওড়া হচ্ছে। রাজ্যসভার আসন বিক্রির মতো অভিযোগ ভারতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর। যদিও এখন পর্যন্ত হরভজন কোনো লিখিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি, তবুও তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো আপকে আক্রমণ করার সুযোগ পেয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আগামী বছর পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগেই হরভজনের এই অবস্থান পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শোনা যাচ্ছে, শুধু হরভজন নন, আম আদমি পার্টির আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা খুব শীঘ্রই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। বিজেপির দিকে তাঁর এই ঝোঁক ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।
আপ সমর্থকদের মধ্যে এই মুহূর্তে চরম বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্য। একসময়ের প্রিয় ‘ভাজ্জি’ এখন নিজের দলেরই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এখন দেখার বিষয়, সাংসদ হরভজন সিং কবে তাঁর প্রতিশ্রুত সেই ‘বিস্ফোরক’ নথি প্রকাশ করেন এবং তার জেরে পঞ্জাব রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়। আপাতত গোটা ঘটনার দিকে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।





