নিয়োগ দুর্নীতিতে কলঙ্কিত বাংলা! ভাবমূর্তি ফেরাতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শিয়ালদহে আয়োজিত এক মেগা ‘রোজগার মেলা’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিগত বছরের নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা মেরামত করাই এখন বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘১০ লক্ষ চাকরির’ স্বপ্নপূরণের অংশ হিসেবে শনিবার দেশের ৪৭টি স্থানে একযোগে রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। শিয়ালদহের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যের ৫১ হাজার বেকার যুবক-যুবতীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রের স্বচ্ছতা এবং নতুন সরকারের কাজের গতি দেখে এদিন উচ্ছ্বসিত ছিলেন উপভোক্তারা।

তবে নিয়োগপত্র প্রদানের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি—বারবার হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের ফলে ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষের চাকরি বাতিল হয়েছে। নিয়োগের নামে রাজ্যের ভাবমূর্তি যেভাবে ধূলিসাৎ হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন তাঁদের অগ্রাধিকার। বিধানসভার আগামী অধিবেশনেই নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন আনা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানান, ভবিষ্যতে প্রতিটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের হাতে ওএমআর শিটের (OMR Sheet) কার্বন কপি তুলে দেওয়া হবে। এর ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং পরীক্ষার খাতা বা রেজাল্ট নিয়ে কোনো কারচুপির সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে মানুষের অনেক আশা ছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরে তা ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা চাই না মেধা কোনো রাজনৈতিক দুর্নীতির বলি হোক। সরকারি এবং সরকার পোষিত প্রতিটি সংস্থায় স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের মাত্র ১১ দিনের মধ্যে ১৩ জন হেভিওয়েট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা এবং আজ ৫১ হাজার নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘ব্যাটিং’ রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত বেকার যুবক-যুবতীদের আস্থা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

এখন দেখার, নতুন এই নিয়োগ নীতি এবং স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি রাজ্যকে পুনরায় মেধার সংস্কৃতির দিকে ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হয়। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান নিয়োগপ্রার্থী লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy