রাজনীতির ময়দানে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। দলের সিনিয়র নেত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী মালা রায়ের ডাকা বৈঠকে দলের অন্দরেই দেখা দিল এক অদ্ভুত ছবি। কলকাতার প্রশাসনিক সদর দপ্তরের ভিজিটরস রুমে আয়োজিত এই বৈঠকে আমন্ত্রিত থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপস্থিত রইলেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
কী জানা যাচ্ছে এই বৈঠক নিয়ে? সূত্রের খবর, সাংগঠনিক কাজের পর্যালোচনা এবং দলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকে কাউন্সিলরদের এই ব্যাপক হারে গরহাজিরা দলের অন্দরের ক্ষোভকেই কি প্রকাশ্যে আনল? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দলের অন্দরের খবর, অনেকেরই অভিযোগ—নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগে ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে, যার জেরেই এমন অনীহা।
কেন এই অনুপস্থিতি? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই গরহাজিরার পিছনে মূলত তিনটি কারণ থাকতে পারে:
অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ: সাম্প্রতিক পৌর নিয়োগ বা ওয়ার্ড স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনেক কাউন্সিলরের মধ্যেই নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
সমন্বয়ের অভাব: বৈঠকের সময় বা আলোচ্যসূচি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না পৌঁছানোর অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
গুজবের বাতাবরণ: দলের অন্দরে চলা বিভিন্ন গোষ্ঠীকোন্দল বা ক্ষমতার লড়াইয়ের ছায়া পড়েছে এই বৈঠকে।
তৃণমূলের অন্দরমহল: ঘটনার পরই দলের জেলা নেতৃত্ব বা শীর্ষস্তরের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ভিজিটরস রুমের এই ঘরোয়া বৈঠক যে দলের অন্দরে কোনো বড় সংকেত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। মালা রায়ের মতো বর্ষীয়ান নেত্রীর ডাকে ৫০ জন কাউন্সিলরের এমন ‘সাইলেন্ট প্রটেস্ট’ বা ‘গরহাজিরা’ বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এখন দেখার বিষয়, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিকে কীভাবে সামাল দেয় এবং কাউন্সিলরদের এই ক্ষোভ নিরসনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আপনি কি দলের এই সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা বা কাউন্সিলরদের ক্ষোভের কারণ সম্পর্কে আরও গভীরে কোনো বিশ্লেষণ জানতে চান?





